Hi

০২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেকর্ড রেমিট্যান্সে ৩০০ কোটি ডলারের পথে বাংলাদেশ

ঈদুল ফিতরের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনেই দেশে মোট ২৭৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি, যেখানে গত বছর একই সময়ে ১৫৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছিল। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলার বা ৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চলতি মাসের ২৪ দিনেই এসেছে প্রায় ২৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে স্বজনদের কাছে অর্থ প্রেরণের হার বাড়ায় প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। শুধুমাত্র গত ২৪ মার্চ একদিনেই দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, আর তার পরের অবস্থানে ছিল ফেব্রুয়ারি মাস, যেখানে প্রায় ২৫৩ কোটি ডলার আয় হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, চলতি বছর মোট রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বুধবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে দেশে স্বজনদের কাছে বিপুল পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গভর্নর ড. মনসুর আরও জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা অর্থপাচার রোধ বা প্রণোদনার ফল যাই হোক না কেন, এটি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে যথাক্রমে ২১৮ কোটি ৫২ লাখ ও ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে সদ্য বিদায়ী ২০২৪ সালে পুরো বছরে দেশে মোট ২ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

গত বছরের ১২ মাসের রেমিট্যান্স পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২১১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার, মার্চে ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার, এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার, মে মাসে ২২৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার, জুন মাসে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ, জুলাইতে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার, আগস্টে ২২২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার, নভেম্বরে ২১৯ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার দেশে আসে।

জনপ্রিয়

রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রেকর্ড রেমিট্যান্সে ৩০০ কোটি ডলারের পথে বাংলাদেশ

আপডেট : ০১:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনেই দেশে মোট ২৭৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি, যেখানে গত বছর একই সময়ে ১৫৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছিল। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলার বা ৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চলতি মাসের ২৪ দিনেই এসেছে প্রায় ২৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে স্বজনদের কাছে অর্থ প্রেরণের হার বাড়ায় প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। শুধুমাত্র গত ২৪ মার্চ একদিনেই দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, আর তার পরের অবস্থানে ছিল ফেব্রুয়ারি মাস, যেখানে প্রায় ২৫৩ কোটি ডলার আয় হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, চলতি বছর মোট রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বুধবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে দেশে স্বজনদের কাছে বিপুল পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গভর্নর ড. মনসুর আরও জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা অর্থপাচার রোধ বা প্রণোদনার ফল যাই হোক না কেন, এটি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে যথাক্রমে ২১৮ কোটি ৫২ লাখ ও ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে সদ্য বিদায়ী ২০২৪ সালে পুরো বছরে দেশে মোট ২ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

গত বছরের ১২ মাসের রেমিট্যান্স পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২১১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার, মার্চে ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার, এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার, মে মাসে ২২৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার, জুন মাসে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ, জুলাইতে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার, আগস্টে ২২২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার, নভেম্বরে ২১৯ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার দেশে আসে।