Hi

০২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরতের ছোঁয়ায় সেজেছে শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া ছড়া, কাশফুলের টানে ভিড় পর্যটকদের

ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের আগমনে প্রকৃতিতে এখন শরতের রাজত্ব। নীল আকাশ আর সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে আসা শরৎ ঋতুর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো শুভ্র কাশফুল। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সবুজ চা-বাগানের বুক চিরে বয়ে চলা ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই পাড় এখন সেজেছে সাদা কাশফুলের সমারোহে। শহর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফুটে থাকা এই কাশবন প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছড়ার পাড়ের এই মনোরম দৃশ্য দেখতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কাশবনের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউবা ছবি তুলছেন। আবার অনেকে সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে এই নান্দনিক দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কাশফুল ফুটতে শুরু করে এবং সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে এর সৌন্দর্য অটুট থাকে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

কাশবনে ঘুরতে আসা শিউলি, জলি, নোহাশ, রায়হান, মাসুম, কাজিম ও মুস্তাকিম জানান, চা-বাগানের ফাঁকে ছড়ার পাড়ে দিগন্তজোড়া কাশফুলের দৃশ্য এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জাকিয়া তাসনিম বলেন, ঋতু পরিক্রমায় শরতের এই রূপ উপভোগ করতেই তিনি শ্রীমঙ্গলে ছুটে এসেছেন। স্থানীয় শিক্ষক মো. আফসার মিয়া ও সাইফুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড়জুড়ে ফুটে থাকা কাশফুল পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

স্থানীয় ট্যুর গাইড শ্যামল দেব বর্মা জানান, শরতের এই কাশফুল এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেলের মতে, প্রতি বছর শরৎকালে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে এই কাশবন অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, কাশফুল মূলত ‘Saccharum spontaneum’ নামক বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, যা প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। নদী ও ছড়ার তীরে ফুটে থাকা এই ফুল প্রকৃতিকে আরও নান্দনিক করে তোলে।

তবে পর্যটকদের ভিড়ের মাঝে কিছু অসচেতন দর্শনার্থীর হাতে কাশফুল ছিঁড়ে ফেলার প্রবণতা দেখা গেছে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফুল না ছিঁড়ে কেবল দূর থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঝোপঝাড়, নদীর তীর, রাস্তার পাশসহ আনাচেকানাচে ফুটে থাকা কাশফুল জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এই শুভ্রতার মুগ্ধতায় মেতে উঠেছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলে পুরো এলাকা যেন সেজেছে অপরূপ সাজে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ তিন দেশের এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ বাড়াল কাতার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শরতের ছোঁয়ায় সেজেছে শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া ছড়া, কাশফুলের টানে ভিড় পর্যটকদের

আপডেট : ১২:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের আগমনে প্রকৃতিতে এখন শরতের রাজত্ব। নীল আকাশ আর সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে আসা শরৎ ঋতুর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো শুভ্র কাশফুল। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সবুজ চা-বাগানের বুক চিরে বয়ে চলা ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই পাড় এখন সেজেছে সাদা কাশফুলের সমারোহে। শহর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফুটে থাকা এই কাশবন প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছড়ার পাড়ের এই মনোরম দৃশ্য দেখতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কাশবনের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউবা ছবি তুলছেন। আবার অনেকে সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে এই নান্দনিক দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কাশফুল ফুটতে শুরু করে এবং সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে এর সৌন্দর্য অটুট থাকে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

কাশবনে ঘুরতে আসা শিউলি, জলি, নোহাশ, রায়হান, মাসুম, কাজিম ও মুস্তাকিম জানান, চা-বাগানের ফাঁকে ছড়ার পাড়ে দিগন্তজোড়া কাশফুলের দৃশ্য এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জাকিয়া তাসনিম বলেন, ঋতু পরিক্রমায় শরতের এই রূপ উপভোগ করতেই তিনি শ্রীমঙ্গলে ছুটে এসেছেন। স্থানীয় শিক্ষক মো. আফসার মিয়া ও সাইফুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড়জুড়ে ফুটে থাকা কাশফুল পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

স্থানীয় ট্যুর গাইড শ্যামল দেব বর্মা জানান, শরতের এই কাশফুল এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেলের মতে, প্রতি বছর শরৎকালে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে এই কাশবন অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, কাশফুল মূলত ‘Saccharum spontaneum’ নামক বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, যা প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। নদী ও ছড়ার তীরে ফুটে থাকা এই ফুল প্রকৃতিকে আরও নান্দনিক করে তোলে।

তবে পর্যটকদের ভিড়ের মাঝে কিছু অসচেতন দর্শনার্থীর হাতে কাশফুল ছিঁড়ে ফেলার প্রবণতা দেখা গেছে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফুল না ছিঁড়ে কেবল দূর থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঝোপঝাড়, নদীর তীর, রাস্তার পাশসহ আনাচেকানাচে ফুটে থাকা কাশফুল জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এই শুভ্রতার মুগ্ধতায় মেতে উঠেছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলে পুরো এলাকা যেন সেজেছে অপরূপ সাজে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো।