Hi

০২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে মহাকাশে পাড়ি দিল নাসার শক্তিশালী ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ

মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে নাসার নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান’ স্পেস টেলিস্কোপ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় রোববার সকালে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় এই টেলিস্কোপটি। উৎক্ষেপণের প্রায় ৩০ মিনিট পর স্পেসএক্সের রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টেলিস্কোপটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করে।

এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার, কৃষ্ণগহ্বর এবং সৌরজগতের বাইরের বহির্গ্রহ নিয়ে গবেষণা করা। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার মিলে মহাবিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ গঠিত, তবে এগুলোর প্রকৃত স্বরূপ এখনো রহস্যময়। রোমান টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কোটি কোটি ছায়াপথের বিশদ মানচিত্র তৈরি করে মহাবিশ্বের বিবর্তন ও গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছেন।

টেলিস্কোপটির দেখার ক্ষমতা হাবল ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি। এটি মহাকাশের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ ও ছবি ধারণ করতে সক্ষম। প্রায় ১০০ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে পৃথিবী থেকে ১০ লাখ মাইল দূরে একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে গিয়ে এটি কাজ শুরু করবে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপও একই দূরত্বে অবস্থান করলেও রোমান টেলিস্কোপ একসঙ্গে অনেক বড় এলাকা পর্যবেক্ষণে সক্ষম। অন্যদিকে, ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে মাত্র ৩০০ মাইল ওপরের কক্ষপথে থেকে কাজ করছে।

বহির্গ্রহ অনুসন্ধানেও রোমান টেলিস্কোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করে হাজার হাজার থেকে শুরু করে প্রায় এক লাখ পর্যন্ত নতুন বহির্গ্রহের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হতে পারে। কিছু গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের অনুকূল পরিবেশ আছে কি না, তা নিয়েও গবেষণা করা হবে।

নাসার প্রশাসক নিকি ফক্সের মতে, এই টেলিস্কোপ মহাবিশ্বকে দেখার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। মিশনের অন্যতম মূল প্রশ্ন হলো—মহাবিশ্বে মানুষ কি একা? প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জ্যাকি টাউনসেন্ড উৎক্ষেপণকে অসাধারণ ও সফল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, টেলিস্কোপটি সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই মাইলফলক অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেনিফার মিলার্ড জানান, পৃথিবী ও চাঁদ থেকে আসা অবলোহিত আলোর প্রভাবমুক্ত অবস্থানে থাকায় রোমান টেলিস্কোপের শক্তিশালী অবলোহিত ক্যামেরা মানুষের চোখে অদৃশ্য আলো শনাক্ত করতে পারবে। টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে, যিনি ১৯৬০-এর দশকে নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রথম নারী নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাবল স্পেস টেলিস্কোপের অনুমোদন আদায়েও তার বিশেষ অবদান ছিল।

নাসা জানিয়েছে, রোমান টেলিস্কোপের প্রাথমিক মিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও এটি ১০ বছর পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সৌরজগতের বিভিন্ন বস্তু থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত নজর রাখবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডার্ক ম্যাটার সরাসরি দেখা না গেলেও এর মহাকর্ষীয় প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের বিভিন্ন সময়ে ছায়াপথ কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তাদের বিন্যাস কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব গ্রহ আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ তিন দেশের এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ বাড়াল কাতার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে মহাকাশে পাড়ি দিল নাসার শক্তিশালী ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ

আপডেট : ১০:২৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে নাসার নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান’ স্পেস টেলিস্কোপ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় রোববার সকালে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় এই টেলিস্কোপটি। উৎক্ষেপণের প্রায় ৩০ মিনিট পর স্পেসএক্সের রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টেলিস্কোপটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করে।

এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার, কৃষ্ণগহ্বর এবং সৌরজগতের বাইরের বহির্গ্রহ নিয়ে গবেষণা করা। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার মিলে মহাবিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ গঠিত, তবে এগুলোর প্রকৃত স্বরূপ এখনো রহস্যময়। রোমান টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কোটি কোটি ছায়াপথের বিশদ মানচিত্র তৈরি করে মহাবিশ্বের বিবর্তন ও গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছেন।

টেলিস্কোপটির দেখার ক্ষমতা হাবল ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি। এটি মহাকাশের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ ও ছবি ধারণ করতে সক্ষম। প্রায় ১০০ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে পৃথিবী থেকে ১০ লাখ মাইল দূরে একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে গিয়ে এটি কাজ শুরু করবে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপও একই দূরত্বে অবস্থান করলেও রোমান টেলিস্কোপ একসঙ্গে অনেক বড় এলাকা পর্যবেক্ষণে সক্ষম। অন্যদিকে, ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে মাত্র ৩০০ মাইল ওপরের কক্ষপথে থেকে কাজ করছে।

বহির্গ্রহ অনুসন্ধানেও রোমান টেলিস্কোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করে হাজার হাজার থেকে শুরু করে প্রায় এক লাখ পর্যন্ত নতুন বহির্গ্রহের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হতে পারে। কিছু গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের অনুকূল পরিবেশ আছে কি না, তা নিয়েও গবেষণা করা হবে।

নাসার প্রশাসক নিকি ফক্সের মতে, এই টেলিস্কোপ মহাবিশ্বকে দেখার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। মিশনের অন্যতম মূল প্রশ্ন হলো—মহাবিশ্বে মানুষ কি একা? প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জ্যাকি টাউনসেন্ড উৎক্ষেপণকে অসাধারণ ও সফল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, টেলিস্কোপটি সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই মাইলফলক অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেনিফার মিলার্ড জানান, পৃথিবী ও চাঁদ থেকে আসা অবলোহিত আলোর প্রভাবমুক্ত অবস্থানে থাকায় রোমান টেলিস্কোপের শক্তিশালী অবলোহিত ক্যামেরা মানুষের চোখে অদৃশ্য আলো শনাক্ত করতে পারবে। টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে, যিনি ১৯৬০-এর দশকে নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রথম নারী নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাবল স্পেস টেলিস্কোপের অনুমোদন আদায়েও তার বিশেষ অবদান ছিল।

নাসা জানিয়েছে, রোমান টেলিস্কোপের প্রাথমিক মিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও এটি ১০ বছর পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সৌরজগতের বিভিন্ন বস্তু থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত নজর রাখবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডার্ক ম্যাটার সরাসরি দেখা না গেলেও এর মহাকর্ষীয় প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের বিভিন্ন সময়ে ছায়াপথ কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তাদের বিন্যাস কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব গ্রহ আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে।