Hi

০৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিমালয়ের হিমবাহ গলে বাড়ছে নতুন বিপদ: আকস্মিক বন্যায় ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ

হিমালয়ের হিমবাহ ও পাহাড়ের মাটির নিচে জমে থাকা বরফ বা পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলে যাওয়ায় নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছে অঞ্চলটি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ায় হিমবাহ ধস, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শুধু বরফ গলাই নয়, এর ফলে পাহাড়ের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়াও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়া এলাকায় এক ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটে। শুরুতে এটিকে ভূমিকম্প মনে করা হলেও ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, সেখানে রেকর্ড হওয়া ৫ দশমিক ২ মাত্রার কম্পনটি মূলত হিমবাহ ধস ও বিপুল পরিমাণ বরফ-পাথর নিচে নেমে আসার ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর আগে একই নদী ব্যবস্থায় গত বছর আরেকটি হিমবাহ-সম্পর্কিত বন্যায় নয়জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

হিমালয়ের নদী উপত্যকায় মানুষের বসতি ও অবকাঠামো বৃদ্ধির ফলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বর্তমানে হোটেল, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো নদীর খুব কাছে গড়ে উঠছে। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর ওপর প্রায় ২১০ কোটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতি নির্ভরশীল। ফলে এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কেবল নেপাল বা তিব্বতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পুরো দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পাহাড়ের ওপরের বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ভেঙে নদীতে পড়ার ফলে পানি, কাদা ও পাথরের এক বিধ্বংসী প্রবাহ তৈরি হয়। যদিও এই দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্যাটেলাইট নজরদারি ও দ্রুত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি নেপাল, চীন ও নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দশকে হিমবাহের পরিবর্তন থামানো কঠিন হলেও সঠিক প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ন্যাচার, এপি নিউজ ও গ্লোবাল ইস্যুজের তথ্যানুসারে, নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হিমবাহের নিচের ও আশপাশের বরফ এবং পারমাফ্রস্ট একসময় পাহাড়ের শিলাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সেই প্রাকৃতিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে পাহাড়ে কোনো বড় ধস বা বন্যা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বতমালা হিমালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই অঞ্চলের হিমবাহ ও নদীগুলো এশিয়ার বিপুল জনগোষ্ঠীর পানি, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

জনপ্রিয়

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হিমালয়ের হিমবাহ গলে বাড়ছে নতুন বিপদ: আকস্মিক বন্যায় ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ

আপডেট : ০৩:২১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

হিমালয়ের হিমবাহ ও পাহাড়ের মাটির নিচে জমে থাকা বরফ বা পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলে যাওয়ায় নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছে অঞ্চলটি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ায় হিমবাহ ধস, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শুধু বরফ গলাই নয়, এর ফলে পাহাড়ের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়াও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়া এলাকায় এক ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটে। শুরুতে এটিকে ভূমিকম্প মনে করা হলেও ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, সেখানে রেকর্ড হওয়া ৫ দশমিক ২ মাত্রার কম্পনটি মূলত হিমবাহ ধস ও বিপুল পরিমাণ বরফ-পাথর নিচে নেমে আসার ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর আগে একই নদী ব্যবস্থায় গত বছর আরেকটি হিমবাহ-সম্পর্কিত বন্যায় নয়জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

হিমালয়ের নদী উপত্যকায় মানুষের বসতি ও অবকাঠামো বৃদ্ধির ফলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বর্তমানে হোটেল, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো নদীর খুব কাছে গড়ে উঠছে। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর ওপর প্রায় ২১০ কোটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতি নির্ভরশীল। ফলে এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কেবল নেপাল বা তিব্বতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পুরো দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পাহাড়ের ওপরের বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ভেঙে নদীতে পড়ার ফলে পানি, কাদা ও পাথরের এক বিধ্বংসী প্রবাহ তৈরি হয়। যদিও এই দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্যাটেলাইট নজরদারি ও দ্রুত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি নেপাল, চীন ও নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দশকে হিমবাহের পরিবর্তন থামানো কঠিন হলেও সঠিক প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ন্যাচার, এপি নিউজ ও গ্লোবাল ইস্যুজের তথ্যানুসারে, নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হিমবাহের নিচের ও আশপাশের বরফ এবং পারমাফ্রস্ট একসময় পাহাড়ের শিলাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সেই প্রাকৃতিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে পাহাড়ে কোনো বড় ধস বা বন্যা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বতমালা হিমালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই অঞ্চলের হিমবাহ ও নদীগুলো এশিয়ার বিপুল জনগোষ্ঠীর পানি, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।