Hi

০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মূলত স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক চর্চা বেশি দেখা যায়। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের হাতিয়ার হিসেবে গুম-অপহরণকে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সময় গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে ভুক্তভোগীদের বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে অন্তত সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম শুধু ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ পতনের পর অনেকে ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি। আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি ও সরকারি সিদ্ধান্ত

  • পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ: জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য আইজিপি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
  • যানজট নিরসন: ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
  • নিয়োগপত্র প্রদান: গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
  • পুরস্কার ঘোষণা: লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • আন্তর্জাতিক দুর্যোগ: নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
  • কর্মসংস্থান: মালয়েশিয়ায় সেপ্টেম্বর থেকে ২ লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
  • বিদ্যুৎ খাত: বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী।
জনপ্রিয়

সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান রোধে বিজিবিকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১২:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মূলত স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক চর্চা বেশি দেখা যায়। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের হাতিয়ার হিসেবে গুম-অপহরণকে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সময় গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে ভুক্তভোগীদের বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে অন্তত সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম শুধু ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ পতনের পর অনেকে ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি। আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি ও সরকারি সিদ্ধান্ত

  • পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ: জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য আইজিপি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
  • যানজট নিরসন: ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
  • নিয়োগপত্র প্রদান: গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
  • পুরস্কার ঘোষণা: লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • আন্তর্জাতিক দুর্যোগ: নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
  • কর্মসংস্থান: মালয়েশিয়ায় সেপ্টেম্বর থেকে ২ লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
  • বিদ্যুৎ খাত: বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী।