Hi

০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো মা বা স্ত্রীকে আর প্রিয়জনের অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলতে হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে কেড়ে নেয় না, বরং পরিবারগুলোর শান্তি, স্বপ্ন ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও ধ্বংস করে দেয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গোপন বন্দিশালার যে দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল, তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশ বা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, কমিশন এক হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন এখনো নিখোঁজ অথবা মৃত। তিনি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত ভুক্তভোগীর কথা স্মরণ করেন। এছাড়া ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমী এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতো ব্যক্তিদের গুমের শিকার হওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করলেও ন্যায়বিচারের পথ এখনো দীর্ঘ। গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে।

তিনি আরও বলেন, কেবল অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। গুমের শিকার পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনো বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ ভিন্ন মতাবলম্বী কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের বছরের পর বছর আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের কেউ কেউ ফিরে এলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্বাচনের আগে গুম বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’।

জনপ্রিয়

হিমালয়ের হিমবাহ গলে বাড়ছে নতুন বিপদ: আকস্মিক বন্যায় ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ০১:৫৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো মা বা স্ত্রীকে আর প্রিয়জনের অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলতে হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে কেড়ে নেয় না, বরং পরিবারগুলোর শান্তি, স্বপ্ন ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও ধ্বংস করে দেয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গোপন বন্দিশালার যে দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল, তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশ বা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, কমিশন এক হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন এখনো নিখোঁজ অথবা মৃত। তিনি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত ভুক্তভোগীর কথা স্মরণ করেন। এছাড়া ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমী এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতো ব্যক্তিদের গুমের শিকার হওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করলেও ন্যায়বিচারের পথ এখনো দীর্ঘ। গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে।

তিনি আরও বলেন, কেবল অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। গুমের শিকার পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনো বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ ভিন্ন মতাবলম্বী কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের বছরের পর বছর আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের কেউ কেউ ফিরে এলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্বাচনের আগে গুম বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’।