মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যার ফলে লেখক ই. জিন ক্যারলের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও মানহানির মামলায় ৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল। এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা, বিশেষ করে যখন তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং একাধিক আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সর্বোচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ নিম্ন আদালতের রায়কে কার্যকরভাবে সমর্থন করে এবং ট্রাম্পের আপিলের পথ বন্ধ করে দেয়।
ই. জিন ক্যারল, একজন সুপরিচিত প্রাক্তন ম্যাগাজিন কলামিস্ট, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিংরুমে ট্রাম্প তাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি ২০১৯ সালে তার স্মৃতিকথায় প্রথম এই গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ক্যারলকে মিথ্যাবাদী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন, যা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে, নিউইয়র্কের ‘অ্যাডাল্ট সারভাইভার্স অ্যাক্ট’ এর অধীনে ক্যারল দ্বিতীয় একটি মামলা দায়ের করেন। এই আইনটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যৌন নির্যাতনের মামলা করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা খুলে দেয়, যা পূর্বে সময়সীমার কারণে সম্ভব ছিল না। গত বছর একটি জুরি ট্রাম্পকে যৌন হেনস্থা এবং মানহানির জন্য দায়ী সাব্যস্ত করে এবং ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। জুরি অবশ্য ধর্ষণ প্রমাণিত হয়নি বলে রায় দেয়, তবে এটি নিশ্চিত করে যে ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নির্যাতন করেছেন এবং তার মন্তব্যের মাধ্যমে মানহানি করেছেন।
আদালতের এই রায়ের পর ট্রাম্প এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অবিচার বলে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে আপিল করেন। তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন নিম্ন আদালতে আপিল করেছিলেন এবং রায়টি স্থগিত করার পাশাপাশি অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতা এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বারবার যুক্তি দেন যে তিনি নির্দোষ এবং এই মামলা তার বিরুদ্ধে একটি সাজানো চক্রান্ত। অবশেষে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন, আশা করেছিলেন যে আদালত নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করবে বা অন্ততপক্ষে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেবে।
তবে, সুপ্রিম কোর্ট কোনো মন্তব্য ছাড়াই ট্রাম্পের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, যা কার্যকরভাবে নিম্ন আদালতের রায়কে সমর্থন করে। এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক এবং প্রতীকী পরাজয়। এটি তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক আইনি লড়াইয়ের মধ্যে একটি, যা তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলছে। এই রায় ই. জিন ক্যারলের জন্য একটি বড় বিজয় এবং যৌন নির্যাতনের শিকারদের জন্য এক ধরনের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা তাদের অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার বার্তা দেয়।
ই. জিন ক্যারল এবং তার আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে ন্যায়বিচারের জয় বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, যেখানে তিনি সম্ভবত আবারও এই রায়কে অবিচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করবেন। এই রায় ট্রাম্পের ভাবমূর্তি এবং তার নির্বাচনী প্রচারণার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ তাকে এখন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং একাধিক আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা তাকে ব্যস্ত রাখবে, যা তার রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
রিপোর্টার নাম: 
















