Hi

১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান

  • মীর আলাউদ্দিন
  • আপডেট : ১০:১০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪৯ জন দেখেছে

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তরুণ প্রজন্মের কাঁধেই আগামীর বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নানা আধিপত্যবাদী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকলেও ধৈর্য ও শান্তি বজায় রেখে গণতান্ত্রিক ও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়তে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর রয়েছে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সদস্যরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। এই দায়িত্ব আজই গ্রহণ করতে হবে, যাতে আমরা শক্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও অর্থনৈতিক ভিতের ওপর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”

বক্তব্যের শুরুতে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার জন্য স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের দোয়া ও আল্লাহর রহমতেই তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালে ছাত্র জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকার কথা। তাঁর ভাষায়, এসব লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশের মানুষ বারবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন কথা বলার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়াই তাঁর লক্ষ্য। “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে স্বপ্ন একজন মা দেখেন,” বলেন তিনি, যেখানে নারী, পুরুষ কিংবা শিশু সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে।

মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’, আর আজ আমি বলছি ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, উন্নয়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

গণসংবর্ধনার আবহ ছিল আবেগঘন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে লাল সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে তিনি পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে ওঠার পর চারপাশ গগনবিদারী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। তিনি নতুন, স্বৈরাচারমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। বক্তব্য শেষে তিনি মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান এবং উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয়

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণে সৌদি আরবকে চাপ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত ভুল হবে

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান

আপডেট : ১০:১০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তরুণ প্রজন্মের কাঁধেই আগামীর বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নানা আধিপত্যবাদী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকলেও ধৈর্য ও শান্তি বজায় রেখে গণতান্ত্রিক ও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়তে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর রয়েছে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সদস্যরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। এই দায়িত্ব আজই গ্রহণ করতে হবে, যাতে আমরা শক্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও অর্থনৈতিক ভিতের ওপর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”

বক্তব্যের শুরুতে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার জন্য স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের দোয়া ও আল্লাহর রহমতেই তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালে ছাত্র জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকার কথা। তাঁর ভাষায়, এসব লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশের মানুষ বারবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন কথা বলার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়াই তাঁর লক্ষ্য। “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে স্বপ্ন একজন মা দেখেন,” বলেন তিনি, যেখানে নারী, পুরুষ কিংবা শিশু সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে।

মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’, আর আজ আমি বলছি ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, উন্নয়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

গণসংবর্ধনার আবহ ছিল আবেগঘন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে লাল সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে তিনি পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে ওঠার পর চারপাশ গগনবিদারী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। তিনি নতুন, স্বৈরাচারমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। বক্তব্য শেষে তিনি মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান এবং উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।