Hi

১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে এসি বিস্ফোরণে নিহত সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু

কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাভারের বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৮)। তিনি আমিন বাজার বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বেগুন বাড়ি মহল্লার সন্তান ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে মোট ৯ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৫ জনই বাংলাদেশি। পেশায় কসমেটিক ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু ফুটবলের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং আমিন বাজার শাহীন সুপার মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিকস’ নামে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।

দুই সন্তানের জনক আহম্মেদ বাবু গত রোববার পাঁচ দিনের সফরে কলকাতায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। যাওয়ার সময় বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম ও স্ত্রী বুবলী আকতারকে বলে গিয়েছিলেন মাত্র ৫ দিন কলকাতায় বেড়াবেন। যাত্রার আগে মাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চেয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সুস্থভাবে ফিরে আসার, কিন্তু সেই যাত্রাই যে তার শেষ যাত্রা হবে তা পরিবারের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ আহম্মেদ বাবুর সাথে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়। এ সময় তিনি তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন এবং স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের সাথে কথা বলেন। পরিবারের সবাই কেমন আছেন এবং বাচ্চাদের ও মায়ের জন্য কী কী কেনাকাটা করেছেন, তা তিনি জানিয়েছিলেন। এরপর রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহম্মেদ বাবুসহ ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন হওয়ায় ঘণ্টাখানেক সময়ের ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে প্রাণ যায় ৫ বাংলাদেশীসহ ৯ জনের। আহম্মেদ বাবু আমিন বাজার মফিদ-ই আম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করে ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে আমিন বাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এখন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

জনপ্রিয়

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সরকারের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে এসি বিস্ফোরণে নিহত সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু

আপডেট : ০৮:৪১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাভারের বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৮)। তিনি আমিন বাজার বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বেগুন বাড়ি মহল্লার সন্তান ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে মোট ৯ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৫ জনই বাংলাদেশি। পেশায় কসমেটিক ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু ফুটবলের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং আমিন বাজার শাহীন সুপার মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিকস’ নামে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।

দুই সন্তানের জনক আহম্মেদ বাবু গত রোববার পাঁচ দিনের সফরে কলকাতায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। যাওয়ার সময় বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম ও স্ত্রী বুবলী আকতারকে বলে গিয়েছিলেন মাত্র ৫ দিন কলকাতায় বেড়াবেন। যাত্রার আগে মাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চেয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সুস্থভাবে ফিরে আসার, কিন্তু সেই যাত্রাই যে তার শেষ যাত্রা হবে তা পরিবারের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ আহম্মেদ বাবুর সাথে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়। এ সময় তিনি তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন এবং স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের সাথে কথা বলেন। পরিবারের সবাই কেমন আছেন এবং বাচ্চাদের ও মায়ের জন্য কী কী কেনাকাটা করেছেন, তা তিনি জানিয়েছিলেন। এরপর রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহম্মেদ বাবুসহ ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন হওয়ায় ঘণ্টাখানেক সময়ের ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে প্রাণ যায় ৫ বাংলাদেশীসহ ৯ জনের। আহম্মেদ বাবু আমিন বাজার মফিদ-ই আম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করে ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে আমিন বাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এখন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।