Hi

০৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: নিহত বাংলাদেশিদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি দেশে ফেরাতে তৎপর সরকার

ভারতের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তার ভাষ্য, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করছে মিশন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের আবাসিক হোটেল ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানান, এখন পর্যন্ত সাত জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন, যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ও দুইজন ভারতীয় নাগরিক। নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের ৩৭ বছর বয়সী আহম্মেদ বাবুও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি দুই জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর আরও বাংলাদেশি আছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মৃতদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে উপ-হাইকমিশনার জানান, স্থানীয় প্রশাসনের আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃতদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী শুক্রবার নাগাদ মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। নিহতদের মৃতদেহ দেশে ফেরানোর খরচ সরকার বহন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, নিহতরা শ্রমিক ছিলেন না, তাই এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা হয়তো খুব বেশি থাকবে না। তবে পরিবারের সদস্যরা যদি মৃতদেহ দেশে ফেরানোর খরচ বহন করতে না পারেন, তাহলে সরকার বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনে মোট ২০টি হোটেল রয়েছে, যেখানে প্রতি তলায় চার থেকে পাঁচটি করে হোটেল পরিচালিত হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হোটেল মালিক বিরেশ্বর মিত্রসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী পলাতক রয়েছেন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না মেনেই হোটেল চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরেশ্বর মিত্রের স্ত্রী লিপি মিত্র জানান, রাতে হোটেলে আগুন লাগার পর বেশ কয়েকবার কল এলেও তারা তা শোনেননি। তিনি স্বীকার করেন যে হোটেলের বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা ছিল এবং তার স্বামী সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে হোটেল মালিককে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয়

প্রেক্ষাপট: বঙ্গভবনে ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ: চিফ হুইপ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: নিহত বাংলাদেশিদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি দেশে ফেরাতে তৎপর সরকার

আপডেট : ০৮:২০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তার ভাষ্য, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করছে মিশন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের আবাসিক হোটেল ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানান, এখন পর্যন্ত সাত জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন, যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ও দুইজন ভারতীয় নাগরিক। নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের ৩৭ বছর বয়সী আহম্মেদ বাবুও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি দুই জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর আরও বাংলাদেশি আছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মৃতদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে উপ-হাইকমিশনার জানান, স্থানীয় প্রশাসনের আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃতদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী শুক্রবার নাগাদ মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। নিহতদের মৃতদেহ দেশে ফেরানোর খরচ সরকার বহন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, নিহতরা শ্রমিক ছিলেন না, তাই এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা হয়তো খুব বেশি থাকবে না। তবে পরিবারের সদস্যরা যদি মৃতদেহ দেশে ফেরানোর খরচ বহন করতে না পারেন, তাহলে সরকার বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনে মোট ২০টি হোটেল রয়েছে, যেখানে প্রতি তলায় চার থেকে পাঁচটি করে হোটেল পরিচালিত হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হোটেল মালিক বিরেশ্বর মিত্রসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী পলাতক রয়েছেন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না মেনেই হোটেল চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরেশ্বর মিত্রের স্ত্রী লিপি মিত্র জানান, রাতে হোটেলে আগুন লাগার পর বেশ কয়েকবার কল এলেও তারা তা শোনেননি। তিনি স্বীকার করেন যে হোটেলের বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা ছিল এবং তার স্বামী সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে হোটেল মালিককে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।