Hi

০৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য পেল চীনের ল্যান্ডস্পেস

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে চীনের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডস্পেস। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং কমার্শিয়াল স্পেস ইনোভেশন পাইলট জোন থেকে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ঝুকু-৩ (Zhuque-3) রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটির প্রথম ধাপটি নির্ধারিত অবতরণ এলাকায় ফিরে এসে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করে, যা দেশটির বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য একটি বড় অর্জন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং সিসিটিভির প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, রকেটের প্রথম ধাপটি মরুভূমির নির্দিষ্ট অবতরণস্থলের দিকে ধীরগতিতে নেমে আসছে। অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে রকেটটির ভাঁজ করা পাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় এবং এটি নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে স্থির হয়। একই অভিযানে রকেটটির দ্বিতীয় ধাপটি সফলভাবে হংহু-০৩ স্যাটেলাইটকে তার নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। এই পুরো মিশনটিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘সম্পূর্ণ সফল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

মহাকাশ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা কক্ষপথে উৎক্ষেপণযোগ্য শ্রেণির রকেটের বুস্টার নিজস্ব অবতরণ পা ব্যবহার করে স্থলভাগে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রিজ এই ঘটনাকে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের সক্ষমতার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চীন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি—উভয় খাতেই রকেট পুনরুদ্ধারের পৃথক প্রযুক্তি প্রদর্শন করল। এর আগে জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি লং মার্চ-১০বি রকেটের প্রথম ধাপ সমুদ্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল।

অধ্যাপক ডি গ্রিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি মহাকাশ খাতের মধ্যকার এই সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চীনকে ভবিষ্যতে কম খরচে ঘন ঘন রকেট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। বিশেষ করে বড় আকারের স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডল বা মেগা-কনস্টেলেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে এই ধরনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতকেও প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। সিনহুয়ার তথ্যমতে, ঝুকু-৩ রকেটটি চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি তুলনামূলক কম খরচে অধিক সক্ষমতা নিয়ে ঘন ঘন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের এই সক্ষমতা অর্জনের ফলে ভবিষ্যতে উৎক্ষেপণ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এর ফলে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ চীনকে বিশ্ব মহাকাশ প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য পেল চীনের ল্যান্ডস্পেস

আপডেট : ০৪:১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে চীনের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডস্পেস। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং কমার্শিয়াল স্পেস ইনোভেশন পাইলট জোন থেকে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ঝুকু-৩ (Zhuque-3) রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটির প্রথম ধাপটি নির্ধারিত অবতরণ এলাকায় ফিরে এসে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করে, যা দেশটির বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য একটি বড় অর্জন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং সিসিটিভির প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, রকেটের প্রথম ধাপটি মরুভূমির নির্দিষ্ট অবতরণস্থলের দিকে ধীরগতিতে নেমে আসছে। অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে রকেটটির ভাঁজ করা পাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় এবং এটি নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে স্থির হয়। একই অভিযানে রকেটটির দ্বিতীয় ধাপটি সফলভাবে হংহু-০৩ স্যাটেলাইটকে তার নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। এই পুরো মিশনটিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘সম্পূর্ণ সফল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

মহাকাশ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা কক্ষপথে উৎক্ষেপণযোগ্য শ্রেণির রকেটের বুস্টার নিজস্ব অবতরণ পা ব্যবহার করে স্থলভাগে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রিজ এই ঘটনাকে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের সক্ষমতার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চীন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি—উভয় খাতেই রকেট পুনরুদ্ধারের পৃথক প্রযুক্তি প্রদর্শন করল। এর আগে জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি লং মার্চ-১০বি রকেটের প্রথম ধাপ সমুদ্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল।

অধ্যাপক ডি গ্রিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি মহাকাশ খাতের মধ্যকার এই সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চীনকে ভবিষ্যতে কম খরচে ঘন ঘন রকেট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। বিশেষ করে বড় আকারের স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডল বা মেগা-কনস্টেলেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে এই ধরনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতকেও প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। সিনহুয়ার তথ্যমতে, ঝুকু-৩ রকেটটি চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি তুলনামূলক কম খরচে অধিক সক্ষমতা নিয়ে ঘন ঘন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের এই সক্ষমতা অর্জনের ফলে ভবিষ্যতে উৎক্ষেপণ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এর ফলে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ চীনকে বিশ্ব মহাকাশ প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।