Hi

১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় তিন পরাশক্তি

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলা এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন দেশ। এই লক্ষ্য অর্জনে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। মহাকাশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পরমাণু শক্তির ব্যবহার এখন অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে নিজস্ব পরমাণু চুল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসানোর লক্ষ্য রয়েছে, যা কোনো প্রকার রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে, বেইজিং ও মস্কো যৌথ উদ্যোগে ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। চীন-রাশিয়ার এই যৌথ উদ্যোগের চুল্লিটির সক্ষমতা ১০ কিলোওয়াট, তবে এটি একটানা এক দশক পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

চাঁদে সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। সেখানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাত থাকে, যে সময়ে তাপমাত্রা অত্যন্ত কমে যায় এবং বিদ্যুৎ সংকটের সৃষ্টি হয়। এই দীর্ঘ অন্ধকার ও চরম শীতল পরিবেশে ঘাঁটির সুরক্ষা ও গবেষণার কাজ সচল রাখতে পরমাণু শক্তিই এখন একমাত্র কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি স্থাপনের তাড়াহুড়ো নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

মহাকাশে এসব চুল্লি স্থাপনের ক্ষেত্রে রকেট উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রয়েছে চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ। এর চেয়েও বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে। যদিও ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর মালিকানা দাবি করতে পারে না, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিজস্ব চুল্লির সুরক্ষার অজুহাতে কোনো দেশ যদি তার চারপাশকে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করে, তবে অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যা মহাকাশে নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয়

বিশ্ব বসতি দিবসে আগারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় তিন পরাশক্তি

আপডেট : ১০:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলা এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন দেশ। এই লক্ষ্য অর্জনে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। মহাকাশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পরমাণু শক্তির ব্যবহার এখন অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে নিজস্ব পরমাণু চুল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসানোর লক্ষ্য রয়েছে, যা কোনো প্রকার রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে, বেইজিং ও মস্কো যৌথ উদ্যোগে ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। চীন-রাশিয়ার এই যৌথ উদ্যোগের চুল্লিটির সক্ষমতা ১০ কিলোওয়াট, তবে এটি একটানা এক দশক পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

চাঁদে সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। সেখানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাত থাকে, যে সময়ে তাপমাত্রা অত্যন্ত কমে যায় এবং বিদ্যুৎ সংকটের সৃষ্টি হয়। এই দীর্ঘ অন্ধকার ও চরম শীতল পরিবেশে ঘাঁটির সুরক্ষা ও গবেষণার কাজ সচল রাখতে পরমাণু শক্তিই এখন একমাত্র কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি স্থাপনের তাড়াহুড়ো নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

মহাকাশে এসব চুল্লি স্থাপনের ক্ষেত্রে রকেট উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রয়েছে চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ। এর চেয়েও বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে। যদিও ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর মালিকানা দাবি করতে পারে না, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিজস্ব চুল্লির সুরক্ষার অজুহাতে কোনো দেশ যদি তার চারপাশকে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করে, তবে অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যা মহাকাশে নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।