Hi

০৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে তরুণকে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার, নেপথ্যে পুরনো বিরোধ

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় গ্রেপ্তার আবদুল খালেক সাংবাদিকদের সামনে নিজের বাবাকে অতীতে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি।’ খালেক আরও অভিযোগ করেন, নিহত রাব্বি এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন এবং যারা টাকা দিত না, তাদের ওপর হামলা চালাতেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব।

নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। গতকাল দুপুরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বি ও তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। র‍্যাবের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করে হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল, যা থেকে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিসও হয়েছিল বলে র‍্যাব জানতে পেরেছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে।’ স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে গতকাল রাতে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, এই ঘটনায় সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে এবং তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি।

আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না।

যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না।

আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন।

আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই?

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে।

অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

বাজারের উত্তাপ কমছে না: সবজি থেকে শুরু করে ডিম, মাছ ও মুরগির দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ময়মনসিংহে তরুণকে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার, নেপথ্যে পুরনো বিরোধ

আপডেট : ০৪:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় গ্রেপ্তার আবদুল খালেক সাংবাদিকদের সামনে নিজের বাবাকে অতীতে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি।’ খালেক আরও অভিযোগ করেন, নিহত রাব্বি এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন এবং যারা টাকা দিত না, তাদের ওপর হামলা চালাতেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব।

নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। গতকাল দুপুরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বি ও তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। র‍্যাবের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করে হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল, যা থেকে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিসও হয়েছিল বলে র‍্যাব জানতে পেরেছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে।’ স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে গতকাল রাতে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, এই ঘটনায় সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে এবং তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি।

আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না।

যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না।

আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন।

আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই?

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে।

অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।