জার্মানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন উদ্ধারের পর ইউরোপজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় স্যাক্সনি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় ইউক্রেনের একটি কার্গো উড়োজাহাজের নিকটবর্তী স্থানে ড্রোনটি দেখতে পান এক কর্মী। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ রোবট মোতায়েন করা হয় এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিস্ফোরকটির ডেটোনেটর নিষ্ক্রিয় করার পর নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সেটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একই সময়ের কাছাকাছি আরেকটি অজ্ঞাত বস্তু মাঝ আকাশে একটি কার্গো বিমানের সঙ্গে ধাক্কা খায়। তবে সৌভাগ্যবশত বিমানটি পরবর্তীতে হ্যানোভার বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় এবং সেটিতে কেবল সামান্য ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়। এই ঘটনার পর লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরসহ জার্মানির অন্যান্য স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি কেবল বাণিজ্যিক লজিস্টিকসের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি জার্মান সামরিক বাহিনী এবং ন্যাটো মিত্রদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিশেষ করে ইউক্রেনের বিখ্যাত আন্তোনভ এয়ারলাইনসের একটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে এখানে, যেখান থেকে ইউক্রেনের আকাশপথে অধিকাংশ পণ্য ও রসদ পরিবাহিত হয়। এছাড়া বৈশ্বিক লজিস্টিকস জায়ান্ট ডিএইচএল-এর একটি প্রধান হাবও এই বিমানবন্দরে অবস্থিত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জার্মানির বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল এবং সমুদ্রবন্দরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতিবিহীন রহস্যময় ড্রোন ওড়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নিরাপত্তা বিঘ্নকারী ঘটনার পেছনে বিদেশি শক্তির, বিশেষ করে রাশিয়ার গোপন এজেন্টদের হাত থাকতে পারে বলে জোরালো ধারণা করছেন জার্মান নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। জার্মানিতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সি মাকেইয়েভ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মস্কো ছাড়া এর পেছনে অন্য কারও যুক্ত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক পিটার আর নুম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই জার্মানি এবং এর আশেপাশের ইউরোপীয় দেশগুলোতে এই ধরনের সন্দেহজনক ড্রোনের উপস্থিতি এবং নাশকতাত্মক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এই ড্রোন উদ্ধারের ঘটনা ইউরোপীয় আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পেছনের মূলহোতাদের খুঁজে বের করতে এবং এর উৎস উদঘাটনে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
রিপোর্টার নাম: 




















