২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। রিমান্ডে যাওয়া ওই নেতার নাম আবদুস সোবহান কাজী। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের উত্তরা থানার সহসভাপতি এবং ফরিদপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ চালানো হয়। ওই সহিংস হামলায় আল আমিন খলিফা নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং বহু আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। এই নির্মম হত্যাকাδের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদল খলিফা বাদী হয়ে একই বছরের ১৩ নভেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার ১৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হলেন আবদুস সোবহান কাজী।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের পরিদর্শক মৃত্যুঞ্জয় পণ্ডিত মিঠুন আসামির সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে হাজির করেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য দিলেও তাদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার নেপথ্য নায়কদের শনাক্তকরণ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে সোবহান কাজীকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর বনানী থানার স্টেশন অফিসার্স মেসসংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আবদুস সোবহান কাজীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি, দুটি দামি আইফোন এবং তাঁর নামে ইস্যুকৃত মোট পাঁচটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সোবহান কাজী এই পাসপোর্টগুলো ব্যবহার করে দেশত্যাগ বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়ানোর পরিকল্পনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা সাবেক ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আইনের আওতায় আনার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনা ঘটল।
রিপোর্টার নাম: 




















