স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামার কথা থাকলেও কমনওয়েলথ গেমসের সমাপনী পর্ব শেষে বড় ধরনের এক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। গেমসের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী নিজ দেশের বিমান ধরার পরিবর্তে উগান্ডা ও পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন অ্যাথলেট আকস্মিকভাবে উধাও হয়ে গেছেন। স্কটল্যান্ড পুলিশ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং এ নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে। ক্রীড়াবিষয়ক খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক মাধ্যম এনবিএস স্পোর্টসের প্রতিবেদনে প্রকাশ, উগান্ডার বক্সিং দলের চারজন সদস্য তাঁদের নির্ধারিত রিটার্ন ফ্লাইটে বোর্ডিং করেননি। পরবর্তীতে জানা গেছে, উন্নত জীবনমান, রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
উগান্ডার সংবাদমাধ্যম সূত্রে নিখোঁজ হওয়া চার বক্সারের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাঁরা হলেন—নুহু বাত্তে, অ্যাঞ্জেল কাটুশাবে, ইব্রাহিম কেমিস এবং এমিলি নাকালেমা। এর মধ্যে উগান্ডান দলের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিজ দেশের ভঙ্গুর ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে তাঁরা যুক্তরাজ্যেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁদের এই কঠিন সিদ্ধান্তকে নেতিবাচকভাবে না দেখে বরং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করা হয়। এদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘পাকিস্তান টুডে’ জানিয়েছে, দেশটির কুদরাতউল্লাহ নামের এক বক্সারও একইভাবে নিজ দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তারা তাঁর হোটেলে গিয়ে কামরা খালি পান এবং তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
কমনওয়েলথ গেমসের মতো বৈশ্বিক আসরে অ্যাথলেটদের এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১৪ সালেও গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের সময় উগান্ডার দুজন রাগবি খেলোয়াড় এবং ক্যামেরুনের এক ভারোত্তোলক একইভাবে দলছুট হয়ে লুকিয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের কেউ কেউ যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আইনি বৈধতা অর্জন করে নতুন ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন, আবার কেউ কেউ বিতর্কের মুখেও পড়েন। বর্তমান গ্লাসগো আসরের প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, নিজ নিজ ইভেন্ট সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী দুই রাতের মধ্যে খেলোয়াড়দের ভিলেজ বা নির্ধারিত আবাসন ত্যাগ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। গ্লাসগো ২০২৬-এর মুখপাত্র সোফি অ্যাশক্রফট গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই আকস্মিক পরিস্থিতির পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, বর্ডার ফোর্স এবং ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে তাঁরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একাধিক অ্যাথলেটের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁদের হাতে এসেছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখতে হোম অফিস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সমন্বয় শুরু হয়েছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটরা অংশ নেওয়ার আগে তাদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক সম্পন্ন করেই যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে গেমসের উন্মাদনা ও সমাপ্তির সুযোগ নিয়ে অনেকেই এই আইনি কাঠামোর ফাঁকফোকর গলিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে এবং অভিবাসন আইন কঠোর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 






















