ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে সোমবার ভোরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই দেশজুড়ে ‘বড় ধরনের রুশ হামলার’ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তার সেই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর এই আকস্মিক ও ব্যাপক হামলায় শহরের আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে দিনভর তৎপরতা চালিয়েছেন। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কিয়েভের পাশাপাশি ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের আকাশসীমায়ও রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করলেও, বেশ কয়েকটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলোও সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে। পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে এবং ফিনল্যান্ডও তাদের আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে চলমান যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ পর্যায় হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাশিয়া সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই বহুমুখী হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা, যাতে শীতের আগমুহূর্তে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা যায়। কিয়েভ কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই হামলা ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টার নাম: 
























