২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিগত সরকারের দুঃশাসনের অবসান এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে এই কর্মসূচিগুলো সাজানো হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। পরদিন ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় পর্যায়ের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন। একই দিনে দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগরেও স্মরণসভা পালিত হবে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮ ও ২০ জুলাই পৃথক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রতীকী জুলাই’ শীর্ষক লাইভ পারফরম্যান্স, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও কবিতা উৎসব, যা গত ১৭ বছরের আন্দোলনের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।
মানবিক ও আধ্যাত্মিক দিক বিবেচনায় ২২ জুলাই সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ ও ২৫ জুলাই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন। এই মাসব্যাপী কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায়ে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি বিশাল ছাত্র সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। মূলত ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সময়ে ছাত্রদলের এই কর্মসূচি দেশে রাজনৈতিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রিপোর্টার নাম: 























