Hi

০২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিএআর-এর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত: বালোগুনের লাল কার্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়

ফুটবল বিশ্বে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে ফিফা বিশ্বকাপ—প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টেই এই প্রযুক্তির স্বচ্ছতা ও প্রয়োগ নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি বসনিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচটিতেও ভিএআর-এর একটি সিদ্ধান্ত তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচে ফোলারিন বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৬২ মিনিটে। বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালির পেছনে বালোগুনের পা আঘাত করে। প্রাথমিক অবস্থায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস কোনো ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ভিএআর-এর হস্তক্ষেপে তিনি মাঠের পাশে থাকা মনিটরে রিপ্লে দেখেন। পরবর্তীতে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জয় নিশ্চিত হলেও, শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারকা এই ফরোয়ার্ডকে পাচ্ছে না দলটি।

এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের একটি ঘটনার সাথে তুলনা শুরু হয়। সেখানে লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার মান্দির গোড়ালিতে একইভাবে স্টাড লাগালেও রেফারি সিমন মার্চিনিয়াক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেননি। মেসিকে কার্ড না দেওয়া এবং বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করছেন অনেকেই। বিবিসি’র ধারাভাষ্যে রিও ফার্ডিনান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন বিচার ভিএআর-এর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, বালোগুনের কোনো ইচ্ছাকৃত আঘাতের উদ্দেশ্য ছিল না এবং ঘটনাটি ছিল অনেকটা দুর্ঘটনাজনিত। এছাড়া ইংল্যান্ডের সাবেক নারী ফুটবলার সু স্মিথও মনে করেন, স্থিরচিত্রে ঘটনাটি গুরুতর মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে তা লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ নয়। ভিএআর প্রযুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ভুল সংশোধন করা, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত সেই প্রযুক্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই দাবি—প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম ও বিচারের মানদণ্ড যেন সবার জন্য সমান হয়।

জনপ্রিয়

মাগুরায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির দায়ে ফার্মেসিকে জরিমানা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ভিএআর-এর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত: বালোগুনের লাল কার্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়

আপডেট : ১২:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে ফিফা বিশ্বকাপ—প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টেই এই প্রযুক্তির স্বচ্ছতা ও প্রয়োগ নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি বসনিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচটিতেও ভিএআর-এর একটি সিদ্ধান্ত তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচে ফোলারিন বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৬২ মিনিটে। বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালির পেছনে বালোগুনের পা আঘাত করে। প্রাথমিক অবস্থায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস কোনো ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ভিএআর-এর হস্তক্ষেপে তিনি মাঠের পাশে থাকা মনিটরে রিপ্লে দেখেন। পরবর্তীতে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জয় নিশ্চিত হলেও, শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারকা এই ফরোয়ার্ডকে পাচ্ছে না দলটি।

এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের একটি ঘটনার সাথে তুলনা শুরু হয়। সেখানে লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার মান্দির গোড়ালিতে একইভাবে স্টাড লাগালেও রেফারি সিমন মার্চিনিয়াক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেননি। মেসিকে কার্ড না দেওয়া এবং বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করছেন অনেকেই। বিবিসি’র ধারাভাষ্যে রিও ফার্ডিনান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন বিচার ভিএআর-এর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, বালোগুনের কোনো ইচ্ছাকৃত আঘাতের উদ্দেশ্য ছিল না এবং ঘটনাটি ছিল অনেকটা দুর্ঘটনাজনিত। এছাড়া ইংল্যান্ডের সাবেক নারী ফুটবলার সু স্মিথও মনে করেন, স্থিরচিত্রে ঘটনাটি গুরুতর মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে তা লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ নয়। ভিএআর প্রযুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ভুল সংশোধন করা, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত সেই প্রযুক্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই দাবি—প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম ও বিচারের মানদণ্ড যেন সবার জন্য সমান হয়।