Hi

০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি পাইলট আটকের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর, দাবি কাতারের

ইরানের তিন পাইলটকে গত ছয় মাস ধরে আটক রাখার যে অভিযোগ তেহরান তুলেছে, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর পাইলটদের আটক বা বন্দি করে রাখার দাবিটি বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তেহরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সূচনালগ্নে সামরিক অভিযানের সময় কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরানের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর পাইলট জাভাদ সালেহি, আবদুল মাজিদ দাশতিয়ান ও ইমরান বেহরোশিয়ানকে কাতার আটক করে এবং গত ছয় মাস ধরে তাদের বন্দি করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রধান মিরজানা স্পোলিয়ারিচের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই অভিযোগ করেন।

ইরানি জেনারেলের দাবি, ওই একই অভিযানে নিহত চতুর্থ পাইলট মাজিদ কাজেমির মরদেহ ইরানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২ মার্চ যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ওই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, আটক পাইলটদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি আচরণ করা হয়েছে।

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। মুখপাত্র ড. মাজেদ আল আনসারি জানান, কাতারি আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর আকাশযানগুলোর বিপজ্জনক গতিপথ নিশ্চিত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক প্রোটোকল অনুসরণ করে ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ড. আল আনসারি আরও জানান, কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পাইলটদের দেহাবশেষ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে উদ্ধার হওয়া এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সমন্বয় করতে কাতার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল।

কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও বিস্তারিত সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য গত এপ্রিল মাসে একটি ইরানি প্রতিনিধিদলকে দোহা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ইরান এখনো সেই আমন্ত্রণে কোনো সাড়া দেয়নি।

বর্তমানে অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানোয় কাতার সরকার গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছে। দোহা কর্তৃপক্ষ পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, পাইলটদের আটক রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানে অটল থেকে জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং এ সংক্রান্ত সব তথ্য ও প্রমাণের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইরানি পাইলট আটকের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর, দাবি কাতারের

আপডেট : ০২:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের তিন পাইলটকে গত ছয় মাস ধরে আটক রাখার যে অভিযোগ তেহরান তুলেছে, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর পাইলটদের আটক বা বন্দি করে রাখার দাবিটি বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তেহরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সূচনালগ্নে সামরিক অভিযানের সময় কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরানের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর পাইলট জাভাদ সালেহি, আবদুল মাজিদ দাশতিয়ান ও ইমরান বেহরোশিয়ানকে কাতার আটক করে এবং গত ছয় মাস ধরে তাদের বন্দি করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রধান মিরজানা স্পোলিয়ারিচের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই অভিযোগ করেন।

ইরানি জেনারেলের দাবি, ওই একই অভিযানে নিহত চতুর্থ পাইলট মাজিদ কাজেমির মরদেহ ইরানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২ মার্চ যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ওই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, আটক পাইলটদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি আচরণ করা হয়েছে।

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। মুখপাত্র ড. মাজেদ আল আনসারি জানান, কাতারি আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর আকাশযানগুলোর বিপজ্জনক গতিপথ নিশ্চিত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক প্রোটোকল অনুসরণ করে ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ড. আল আনসারি আরও জানান, কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পাইলটদের দেহাবশেষ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে উদ্ধার হওয়া এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সমন্বয় করতে কাতার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল।

কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও বিস্তারিত সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য গত এপ্রিল মাসে একটি ইরানি প্রতিনিধিদলকে দোহা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ইরান এখনো সেই আমন্ত্রণে কোনো সাড়া দেয়নি।

বর্তমানে অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানোয় কাতার সরকার গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছে। দোহা কর্তৃপক্ষ পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, পাইলটদের আটক রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানে অটল থেকে জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং এ সংক্রান্ত সব তথ্য ও প্রমাণের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।