যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করতে কাতার তার মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল আনসারি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (UNGA) ফাঁকে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সাধারণ ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে দোহা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকেও কাতার সমর্থন দিয়ে আসছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি স্থাপনা, নৌযান ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ড. আনসারি বলেন, কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। আঞ্চলিক দেশগুলোর জনগণ এই সংঘাতের অংশীদার হতে চায় না। তিনি আরও জানান, ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC)ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শান্তি ও আলোচনার ভিত্তিতেই সংকট সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। কাতারের ওপর হামলা চালানো সত্ত্বেও দেশটি শান্তি ও কূটনীতির পথ থেকে সরে আসেনি।
গাজা ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে ড. আনসারি অভিযোগ করেন যে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে উত্তরণের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার বারবার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। একইসঙ্গে পশ্চিম তীরের অস্থিরতা ও বসতি স্থাপনবিরোধী কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার।
পরিশেষে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আক্রমণ থেকে বিরত থাকা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন কাতার সরকারের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সকল পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সহাবস্থানই দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার একমাত্র পথ।
রিপোর্টার নাম: 
























