Hi

০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়ন: শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মানি বাড়াল সরকার

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে, যা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বর্তমান মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এই পরিপত্রে কেবল সম্মানি বাড়ানোই নয়, বরং পরীক্ষা পরিচালনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন কিছু ব্যয় খাতও যুক্ত করা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ এবং বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যদের জন্য সম্মানির হার ৬ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সম্মানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীরা এখন থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা সম্মানি পাবেন, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। একইভাবে, ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের সম্মানি ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্তদের ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষক ও পরীক্ষকদের জন্য উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। পূর্ণ উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতি খাতার সম্মানি ১৩০ টাকা এবং অবজেকটিভ উত্তরের ক্ষেত্রে ৩৫ টাকা বহাল থাকলেও, নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৫ টাকা এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ৫০ টাকা সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, পরীক্ষার আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রস্তুতের জন্য পরীক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওএমআর টপশিট মুদ্রণ, লিথোগ্রাফিক কোডিং-ডিকোডিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যয় খাতগুলোও নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য আনুষঙ্গিক বিবিধ ব্যয়ের সীমা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া আপ্যায়ন ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাজের আগ্রহ বাড়াবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষা খাতের সংস্কার ও মানোন্নয়নের একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়ন: শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মানি বাড়াল সরকার

আপডেট : ০৭:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে, যা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বর্তমান মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এই পরিপত্রে কেবল সম্মানি বাড়ানোই নয়, বরং পরীক্ষা পরিচালনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন কিছু ব্যয় খাতও যুক্ত করা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ এবং বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যদের জন্য সম্মানির হার ৬ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সম্মানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীরা এখন থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা সম্মানি পাবেন, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। একইভাবে, ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের সম্মানি ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্তদের ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষক ও পরীক্ষকদের জন্য উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। পূর্ণ উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতি খাতার সম্মানি ১৩০ টাকা এবং অবজেকটিভ উত্তরের ক্ষেত্রে ৩৫ টাকা বহাল থাকলেও, নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৫ টাকা এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ৫০ টাকা সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, পরীক্ষার আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রস্তুতের জন্য পরীক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওএমআর টপশিট মুদ্রণ, লিথোগ্রাফিক কোডিং-ডিকোডিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যয় খাতগুলোও নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য আনুষঙ্গিক বিবিধ ব্যয়ের সীমা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া আপ্যায়ন ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাজের আগ্রহ বাড়াবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষা খাতের সংস্কার ও মানোন্নয়নের একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।