Hi

০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে মাগুরা শহরে স্থবির জনজীবন: অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি

মাগুরা পৌরসভা ও এর আশপাশের এলাকায় বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি এবং নিচু এলাকার বসতবাড়িগুলো হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ৭ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানির তোড়ে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। রিকশাচালক ও দিনমজুরদের দৈনন্দিন আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। নিজনান্দুয়ালি এলাকার বাসিন্দা শাহানাজ পারভিন ও রোমেসা খাতুনের মতো স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বৃষ্টির পানি জমে রান্নাঘর পর্যন্ত তলিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে অসম্ভব করে তুলেছে। এছাড়া, রাস্তার গর্তগুলো পানির নিচে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার দিকে। হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা ডা. তাসুকুজ্জামান জানান, পৌরসভার ড্রেনগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার না থাকা এবং পরিকল্পিত নকশার অভাবই এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। ড্রেনগুলোর ধারণক্ষমতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে জনবসতিতে ঢুকে পড়ছে। কৃষকরাও তাদের ফসলি জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন; জমে থাকা পানি নিষ্কাশন না হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

মাগুরার এই জলাবদ্ধতা কোনো নতুন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ফল। এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্বাসন এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায়, আগামী দিনগুলোতে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

৭ কোটি ৩৬ লাখ নাগরিকের হাতে স্মার্ট এনআইডি: নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

টানা বর্ষণে মাগুরা শহরে স্থবির জনজীবন: অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি

আপডেট : ০২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মাগুরা পৌরসভা ও এর আশপাশের এলাকায় বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি এবং নিচু এলাকার বসতবাড়িগুলো হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ৭ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানির তোড়ে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। রিকশাচালক ও দিনমজুরদের দৈনন্দিন আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। নিজনান্দুয়ালি এলাকার বাসিন্দা শাহানাজ পারভিন ও রোমেসা খাতুনের মতো স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বৃষ্টির পানি জমে রান্নাঘর পর্যন্ত তলিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে অসম্ভব করে তুলেছে। এছাড়া, রাস্তার গর্তগুলো পানির নিচে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার দিকে। হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা ডা. তাসুকুজ্জামান জানান, পৌরসভার ড্রেনগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার না থাকা এবং পরিকল্পিত নকশার অভাবই এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। ড্রেনগুলোর ধারণক্ষমতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে জনবসতিতে ঢুকে পড়ছে। কৃষকরাও তাদের ফসলি জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন; জমে থাকা পানি নিষ্কাশন না হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

মাগুরার এই জলাবদ্ধতা কোনো নতুন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ফল। এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্বাসন এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায়, আগামী দিনগুলোতে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।