সোনালি আঁশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ও পাটশিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে সরকার। ২০৩০ সালের জুন মাসের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো প্রকল্পের অর্থায়ন করবে সরকার নিজেই। পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনে ২৩২০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের। নতুন সঞ্চালন লাইন, ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ সংকট কমার আশা। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর ১২৪ টাকার কাছাকাছি। ডিজিটাল লেনদেনে অর্থদাতার নাম বাধ্যতামূলক হোক, ছোট পরিবর্তনে আসতে পারে বড় সুফল। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর। গণশুনানি কাল, আরও বাড়তে পারে এলপিজির দাম।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মো. জাহিদ হোসেন জানান, প্রধানত পাটবীজের আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং মূল্য সংযোজিত পাটপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি পাটবীজ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কে বিঘ্ন ঘটলে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে আমদানি নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বপন মৌসুমের শুরুতেই ভারত থেকে আমদানি করা বীজ পাওয়া যায়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে বার্ষিক আয় ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি কাঁচা পাটের বার্ষিক উৎপাদন ১ কোটি ১৫ লাখ বেল থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ বেলে নেওয়া এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যের অংশ ৪৫ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বীজের চাহিদার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মেটানোর লক্ষ্যও ধরা হয়েছে।
প্রকল্পের বরাদ্দের হিসেবে, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ৩০০ কোটি টাকা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৩০০ কোটি এবং যৌথ গবেষণায় ১২০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরিতে ১৫০ কোটি, পরিবেশবান্ধব পচন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ৫০ কোটি এবং লবণাক্ত বা পাহাড়ি অনাবাদি জমিতে চাষাবাদে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে রাজশাহী ও রংপুরে ২৫০ কোটি টাকা, মান নিয়ন্ত্রণে ২৮০ কোটি এবং ডিজিটাল ক্রয়ব্যবস্থা উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ১১৬ কোটি ডলার আয় হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমে আসে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এবং ২৬৬টি পাটকলের মধ্যে ৭৩টি বন্ধ হয়ে যাওয়া এই খাতের রপ্তানি আয়ের বড় বাধা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা প্রায় ২৪ শতাংশ কমে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমেছে। ৫ বছরে ফল আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ, দ্বিগুণ বেড়েছে শুল্ক আয়।
যুগ্ম সচিব মো. জাহিদ হোসেনের মতে, স্থানীয় বীজের সময়মতো সরবরাহের অভাব থাকায় কৃষকরা বিদেশি বীজের ওপর নির্ভর করেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রস্তাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কয়েকটি প্রকল্পে এ খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, বরং দেশি-বিদেশি বাজারে প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, পাটজাত মোড়ক ব্যবহার আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে না, কারণ প্লাস্টিকের মোড়কের ব্যবহার এখনো রয়ে গেছে। মাহফুজ আনামের কলাম / কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।
গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের কারণে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সংকুচিত হচ্ছে। সরকারের উচিত রপ্তানির বাধা দূর করা এবং কাঁচা পাট রপ্তানির বদলে উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির দিকে জোর দেওয়া। এছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির বাজেট ও কার্যকারিতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
রিপোর্টার নাম: 






















