Hi

০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩১ ডিসেম্বরের আগেই পুলিশের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখাতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:২৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছে

পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব পালনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগেই সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর বার্তা দেন। তিনি জানান, পুলিশের মধ্যে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দেবেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে, অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফৌজদারি অপরাধে ছাড় নেই

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা শুধু বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রচলিত আইনে মামলা ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হয়েছিল, তবে বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। এখন নিজেদের সংশোধন করে জনগণের পুলিশ হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তনদের কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, কেউ সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতে গিয়ে ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।

নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট

আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী সপ্তাহে একটি নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। ধাপে ধাপে এতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাবের সুবিধা যুক্ত করা হবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশকে জনবান্ধব করার প্রক্রিয়ায় লজিস্টিক সুবিধা ও জনবল বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়াও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে অধিকতর কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রোপলিটন ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা, অবকাঠামো এবং লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

দায়িত্বশীল ও সক্রিয় পুলিশ বাহিনী

  • সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশ সমাজ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
  • পুলিশের কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না, আইন মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
  • দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের ধরতে গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের পদক দেওয়া হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না দেখাতে পারলে কিংবা অপরাধে লিপ্ত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এতে পুলিশের পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।

জনপ্রিয়

নতুন আঙ্গিকে বাজারে এল ফরিদুর রেজা সাগরের ১৪টি বই

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

৩১ ডিসেম্বরের আগেই পুলিশের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখাতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৭:২৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব পালনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগেই সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর বার্তা দেন। তিনি জানান, পুলিশের মধ্যে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দেবেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে, অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফৌজদারি অপরাধে ছাড় নেই

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা শুধু বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রচলিত আইনে মামলা ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হয়েছিল, তবে বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। এখন নিজেদের সংশোধন করে জনগণের পুলিশ হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তনদের কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, কেউ সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতে গিয়ে ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।

নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট

আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী সপ্তাহে একটি নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। ধাপে ধাপে এতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাবের সুবিধা যুক্ত করা হবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশকে জনবান্ধব করার প্রক্রিয়ায় লজিস্টিক সুবিধা ও জনবল বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়াও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে অধিকতর কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রোপলিটন ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা, অবকাঠামো এবং লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

দায়িত্বশীল ও সক্রিয় পুলিশ বাহিনী

  • সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশ সমাজ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
  • পুলিশের কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না, আইন মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
  • দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের ধরতে গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের পদক দেওয়া হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না দেখাতে পারলে কিংবা অপরাধে লিপ্ত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এতে পুলিশের পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।