হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের জয়ের সমীকরণ ছিল বেশ সহজ। ৩২১ রান তাড়ায় জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৫ বলে ৬৮ রান। ক্রিজে ৬৭ রানে ব্যাট করছিলেন অধিনায়ক জস বাটলার। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় হঠাৎ করেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ইংল্যান্ডের জয়ের পথটা সেখানেই কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও পরে ১৪ বলে ২৭ রানের প্রয়োজন থাকাকালীন বাটলার আবার ব্যাট করতে নামেন, কিন্তু শেষ ওভারে ১৯ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে না পেরে ৩০৬ রানে থেমে যায় ইংল্যান্ড। এতে ১৬ রানের জয় পায় সফরকারী শ্রীলঙ্কা এবং ওয়ানডে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে সমতায় আসে। তাতে ইংল্যান্ড থেমেছে ৩০৬ রানে। বাটলার চোটে না পড়লে শ্রীলঙ্কা কি জিততে পারত। পুরো সিরিজে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কা তো এ কারণেই তুলতে পেরেছে ৩২১ রান।
শ্রীলঙ্কার জয়ের মূল কারিগর ছিলেন কুশল মেন্ডিস। দলের ইনিংসের মেরুদণ্ড হয়ে তিনি ১০০ বলে ১২১ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। তার এই বড় ইনিংসের ওপর ভর করেই শ্রীলঙ্কা ৩২১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ডের হয়ে উইল জ্যাকস ৫২ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে দলের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তবে জ্যাকস রানআউট হয়ে আউট হওয়া এবং পরবর্তীতে বাটলার ৬৯ রানে সাজঘরে ফিরলে শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। হেডিংলিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের জয় তখন সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস এ কথাতে একটু কষ্ট পেতে পারেন। গাস অ্যাটকিনসন, উইল জ্যাকসরা তো ছিলেন।
ম্যাচটিতে শ্রীলঙ্কার বোলারদের কৃতিত্বও কম নয়। রিভার্স সুইংয়ের দক্ষ ব্যবহারে তারা ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের নিয়মিত বিরতিতে চাপে রেখেছেন। এ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে লঙ্কানরা ওয়ানডে জয় তুলে নিল। বর্তমান সফরে এটি শ্রীলঙ্কার প্রথম জয়। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক পরাজয়ের পর নিজের হতাশা ব্যক্ত করে জানান যে, শেষ ১০-১৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে এবং ম্যাচে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল তাদের।
ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস দলের পারফরম্যান্সে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের শুরু এবং মিডল অর্ডারের ব্যাটিং ছিল দারুণ। এখন তাদের লক্ষ্য আগামী পরশু দ্য ওভালে অনুষ্ঠিতব্য সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে মনোযোগ দেওয়া এবং মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখা। ওদিকে, অস্ট্রেলিয়াও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে এবং কেন্টের প্রমোশন-সমীকরণের ম্যাচে খালেদ ৩ উইকেট শিকার করেছেন।
রিপোর্টার নাম: 
























