পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘ডিরাক মেডেল ২০২৬’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে গত ৮ আগস্ট। পরিসংখ্যানগত মেকানিকস বা স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেকানিকসে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছর যৌথভাবে চারজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীকে এই পদকে ভূষিত করেছে দ্য আবদুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিকস (আইসিটিপি)। ১৯৮৫ সাল থেকে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী পল ডিরাকের স্মরণে আইসিটিপি প্রতিবছর তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করে আসছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত চার পদার্থবিজ্ঞানী হলেন ফ্রান্সের কোলেজ দ্য ফ্রান্সের সাম্মানিক অধ্যাপক বার্নার্ড দেরিদা, ভারতের আইসিটিএস-টিআইএফআর-এর ইনসা-বিশিষ্ট অধ্যাপক দীপক ধর, ইতালির বোকোনি ইউনিভার্সিটির তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মার্ক মেজার্দ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেমের ইমেরিটাস অধ্যাপক হাইম সোম্পোলিনস্কি।
আইসিটিপির পরিচালক ও পুরস্কার প্রদান কমিটির প্রধান অতীশ ডাভোলকার জানান, এই চার বিজ্ঞানীর গবেষণা পরিসংখ্যানগত মেকানিকসকে একটি শক্তিশালী কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁদের উদ্ভাবনী কাজ কেবল তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আর্থিক বাজারের মতো জটিল সিস্টেমের রহস্য উন্মোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মার্ক মেজার্দ জটিল সিস্টেমে অগণিত সম্ভাবনার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা বা ‘ফ্রাস্ট্রেশন’ ব্যাখ্যায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। জর্জিয় পারিসি ও মিগুয়েল ভিরারসোর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ভাবিত তাঁর ‘ক্যাভিটি মেথড’ বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন জটিল অ্যালগরিদম তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, তাত্ত্বিক ও কম্পিউটেশনাল স্নায়ুবিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ হাইম সোম্পোলিনস্কি পরিসংখ্যানগত মেকানিকসের মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরাল সার্কিট ও স্মৃতিশক্তির কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর হপফিল্ড মডেলের সমাধান পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে মস্তিষ্কের মেমোরি সিস্টেমের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা বর্তমানের ডিপ লার্নিং ও এআই গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ডিরাক মেডেলের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ অতীতে এই পুরস্কারপ্রাপ্ত অনেক বিজ্ঞানীই পরবর্তীতে নোবেল পুরস্কার এবং ফিল্ডস মেডেলের মতো সর্বোচ্চ বৈশ্বিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। এ বছরের পদক নির্বাচন কমিটিতে দুজন নোবেল বিজয়ীসহ বিশ্বের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এই চার বিজ্ঞানীর কাজ প্রমাণ করে যে, পরিসংখ্যানগত মেকানিকসের গাণিতিক মডেলগুলো কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তির জটিল সমস্যা সমাধানে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টার নাম: 

























