Hi

১০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৪১

ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনো খোঁজ মিলছে না আরও ৪১ জন যাত্রীর। দেশটির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী রবিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী ওই ফেরিটিতে ক্রু ও যাত্রীসহ মোট ২৭১ জন আরোহী ছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা ‘বাসার্নাস’ (Basarnas)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরিটি পূর্ব জাভা প্রদেশের রাজধানী সুরাবায়া বন্দর থেকে ছেড়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের মাকাসার বন্দরের দিকে যাত্রা করেছিল। পথিমধ্যে জাহাজটি মাদুরা দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করেই এর ইঞ্জিনরুম বা অন্য কোনো অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ফেরির ক্যাপ্টেন জরুরি বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারকারী সংস্থাকে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জনবহুল ওই ফেরিটির উপরিভাগের কাঠামোগুলো থেকে তীব্র বেগে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া আকাশে কুন্ডলী পাকাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কিত যাত্রীদের অনেকেই হুড়োহুড়ি করে ডেক থেকে নিচে নামার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার জীবনের ঝুঁকি এড়াতে লাইফ জ্যাকেট পরে আগেই ভাসমান লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোস্টগার্ড ও উদ্ধারকারী দলের একাধিক জাহাজ।

উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত পাঁচজন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন এবং বহু যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ৪১ জনের সন্ধানে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ফেরি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও প্রায়ই অতিরিক্ত বোঝাই এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড ঠিকভাবে না মানার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবারের এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জনপ্রিয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের বিচারহীনতা নিয়ে ক্ষোভ: মায়ের চোখের জলে ভাসল শিল্পকলা একাডেমি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৪১

আপডেট : ০৭:২৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনো খোঁজ মিলছে না আরও ৪১ জন যাত্রীর। দেশটির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী রবিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী ওই ফেরিটিতে ক্রু ও যাত্রীসহ মোট ২৭১ জন আরোহী ছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা ‘বাসার্নাস’ (Basarnas)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরিটি পূর্ব জাভা প্রদেশের রাজধানী সুরাবায়া বন্দর থেকে ছেড়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের মাকাসার বন্দরের দিকে যাত্রা করেছিল। পথিমধ্যে জাহাজটি মাদুরা দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করেই এর ইঞ্জিনরুম বা অন্য কোনো অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ফেরির ক্যাপ্টেন জরুরি বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারকারী সংস্থাকে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জনবহুল ওই ফেরিটির উপরিভাগের কাঠামোগুলো থেকে তীব্র বেগে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া আকাশে কুন্ডলী পাকাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কিত যাত্রীদের অনেকেই হুড়োহুড়ি করে ডেক থেকে নিচে নামার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার জীবনের ঝুঁকি এড়াতে লাইফ জ্যাকেট পরে আগেই ভাসমান লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোস্টগার্ড ও উদ্ধারকারী দলের একাধিক জাহাজ।

উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত পাঁচজন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন এবং বহু যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ৪১ জনের সন্ধানে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ফেরি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও প্রায়ই অতিরিক্ত বোঝাই এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড ঠিকভাবে না মানার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবারের এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।