রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ রোববার নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯), যারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। শনিবার ভোররাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্যমতে, প্রতিবেশী দেবুর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে শিক্ষক গণপতির বাড়ির ছাদে এসে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি দেখে ফেলায় তারা একে একে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যা করে। ঘটনার পর থেকে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো
- প্রথম তলার সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫), দ্বিতীয় তলার খাটের নিচে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) এবং চিলেকোঠায় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) মরদেহ পাওয়া যায়।
- বাড়ির আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল এবং আলমারির ড্রয়ারগুলো ভাঙা পাওয়া যায়, যা ডাকাতির ঘটনার ইঙ্গিত দেয়।
- প্রতিবেশীদের তথ্যমতে, গণপতি চক্রবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না; তবে তার সহকর্মীদের দাবি, অবসরের মোটা অংকের টাকা তিনি গত বৃহস্পতিবার তুলেছিলেন।
সিআইডির ক্রাইম সিন টিম পুরো বাড়িটি ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করছে। সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী জানান, বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং মরদেহগুলো তিন থেকে চার দিন আগের হওয়ায় পচন ধরেছিল। প্রতিটি লাশের গলায় রশি, গামছা কিংবা গেঞ্জি পেঁচানো ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য অধিকতর তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে গতকাল রংপুরে নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশের ধারণা ছিল, গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই বাড়িতে ‘ডাকাতির ঘটনা’ ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গণপতির বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়িতে পড়ে ছিল চারটি লাশ: এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, গণপতি চক্রবর্তী ৪ বছর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর তিনি রোগীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খুবই কম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত বৃহস্পতিবার থেকে তালাবদ্ধ বাড়িতে কোনো সাড়া শব্দ পায়নি এলাকাবাসী।
রিপোর্টার নাম: 
























