যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রশাসনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও কার্যকর শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। গত শনিবার একটি টেলিফোন সংলাপের সময় এই আঞ্চলিক নেতা ওয়াশিংটনের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন এবং চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র ও বিশ্বস্ত কূটনৈতিক মারফত এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সময়টি ২০২৬ সালের আগস্ট মাস এবং এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পক্ষ থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির জেরে হোয়াইট হাউসে তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। কূটনৈতিক মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিগত কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাত এক ভয়ংকর ও অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিতে পারে, যা পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দেবে। অতীতে সংঘাত থামানোর বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে। তেহরান ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের জবাব শুধু মার্কিন স্বার্থেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান জ্বালানি ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকেও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। রিয়াদের পক্ষ থেকে এই সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি এর সুস্পষ্ট কৌশলগত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের পথ খোঁজা উচিত। যদিও হোয়াইট হাউস বা ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এই ফোনালাপ বা বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হয়নি, তবে এর আগে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটন সফর করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রিয়াদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নীতি নির্ধারণে সৌদি আরবের প্রভাব অপরিসীম। সৌদি আরবসহ কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষকেই সংযত হওয়ার এবং উত্তেজনা প্রশমনের জোরালো তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যকার যোগাযোগ এই সংকটে মধ্যস্থতার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক বাণিজ্য সচল রাখতে কাতারি মধ্যস্থতাকারী এবং হোয়াইট হাউসের দূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
০৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত এড়াতে ট্রাম্পকে তেল আবিব বা তেহরানে বড় হামলা থেকে বিরত থাকার তাগিদ এমবিএসের
-
রিপোর্টার নাম: - আপডেট : ০৬:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- ১ জন দেখেছে
জনপ্রিয়
রিপোর্টার নাম: 





















