Hi

০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরহাদ মজহারের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যা বলল জামায়াতে ইসলামী

বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহারের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর একটি মন্তব্য—’যত দিন জামায়াতে ইসলামী থাকবে, তত দিন আওয়ামী লীগ থাকবে’—এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, বিভ্রান্তিকর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জনস্বার্থবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের একজন প্রথিতযশা চিন্তক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে ফরহাদ মজহারের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপন্থী এবং তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। জামায়াত নেতারা মনে করেন, এ ধরনের অস্পষ্ট ও একপেশে বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালিয়েছে। এই সময়কালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো চরম নির্যাতন, গুম, খুন এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এহেন প্রতিকূল ও বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশেও জামায়াত জনগণের ভোটাধিকার এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই থেকে সরে দাঁড়ায়নি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অজস্র নেতাকর্মী চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ কিংবা দীর্ঘমেউাদী কারাবাসের শিকার হয়েছেন। এত বড় আত্মত্যাগের পরও জামায়াতের রাজনীতিকে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত অবিচারমূলক বলে দাবি করেছে দলটি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনে জামায়াতে ইসলামী একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফ্যাসিবাদের শেকড় উৎপাটনে রাজপথে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীরাও রক্ত দিয়েছেন। এমতাবস্থায়, জামায়াতের মতো একটি জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রণী শক্তিকে যদি কেউ পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমীকরণ করার অপচেষ্টা চালায়, তবে সচেতন দেশবাসী তাদের ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর কিংবা পুনর্বাসনকারী হিসেবেই চিহ্নিত করবে। দলটির পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ যেকোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন এবং গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

প্রেম ভাঙার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন দক্ষিণী অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফরহাদ মজহারের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যা বলল জামায়াতে ইসলামী

আপডেট : ০৩:২২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহারের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর একটি মন্তব্য—’যত দিন জামায়াতে ইসলামী থাকবে, তত দিন আওয়ামী লীগ থাকবে’—এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, বিভ্রান্তিকর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জনস্বার্থবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের একজন প্রথিতযশা চিন্তক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে ফরহাদ মজহারের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপন্থী এবং তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। জামায়াত নেতারা মনে করেন, এ ধরনের অস্পষ্ট ও একপেশে বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালিয়েছে। এই সময়কালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো চরম নির্যাতন, গুম, খুন এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এহেন প্রতিকূল ও বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশেও জামায়াত জনগণের ভোটাধিকার এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই থেকে সরে দাঁড়ায়নি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অজস্র নেতাকর্মী চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ কিংবা দীর্ঘমেউাদী কারাবাসের শিকার হয়েছেন। এত বড় আত্মত্যাগের পরও জামায়াতের রাজনীতিকে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত অবিচারমূলক বলে দাবি করেছে দলটি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনে জামায়াতে ইসলামী একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফ্যাসিবাদের শেকড় উৎপাটনে রাজপথে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীরাও রক্ত দিয়েছেন। এমতাবস্থায়, জামায়াতের মতো একটি জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রণী শক্তিকে যদি কেউ পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমীকরণ করার অপচেষ্টা চালায়, তবে সচেতন দেশবাসী তাদের ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর কিংবা পুনর্বাসনকারী হিসেবেই চিহ্নিত করবে। দলটির পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ যেকোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন এবং গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।