Hi

০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও গ্যাস সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ: সরকারের কঠোর সমালোচনা জামায়াতের

দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট, লোডশেডিং এবং ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের বিদ্যুৎ বা গ্যাস ব্যবহার না করা সত্ত্বেও গ্রাহকদের হাতে অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা রোধ করতে বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক নজরদারি ও তদারকির চরম অভাবেই দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা কেবল সংবিধান সংশোধন, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং নতুন রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট এবং তীব্র জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোতে তাদের কার্যকর কোনো মনোযোগ বা পরিকল্পনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে নতুন অনুসন্ধান ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রান্নার কাজে গৃহিণীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সিলিন্ডার গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয় সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদনে যেতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশব্যাপী লোডশেডিংয়ের রূপ নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে একে ডিজিটাল চাঁদাবাজি বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, তাদের কাছে শত শত ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও কপি রয়েছে। অতীতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্ভিস চার্জ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, বরং প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে নিয়মিত ডিমান্ড ও সার্ভিস চার্জ কাটা হচ্ছে। অর্থবছরের শেষ ভাগে এসে সিস্টেম লস কম দেখানোর কৌশল হিসেবে অনুমানভিত্তিক কম বিল প্রস্তুত করা হয় এবং পরবর্তী মাসে প্রকৃত মিটার দেখে অতিরিক্ত বিল চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি দূর করার পাশাপাশি গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিনিয়োগের দাবি জানান। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রশমিত করতে হলে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভুতুড়ে বিল বন্ধ এবং জনজীবনের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

জনপ্রিয়

ফরহাদ মজহারের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যা বলল জামায়াতে ইসলামী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও গ্যাস সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ: সরকারের কঠোর সমালোচনা জামায়াতের

আপডেট : ০২:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট, লোডশেডিং এবং ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের বিদ্যুৎ বা গ্যাস ব্যবহার না করা সত্ত্বেও গ্রাহকদের হাতে অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা রোধ করতে বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক নজরদারি ও তদারকির চরম অভাবেই দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা কেবল সংবিধান সংশোধন, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং নতুন রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট এবং তীব্র জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোতে তাদের কার্যকর কোনো মনোযোগ বা পরিকল্পনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে নতুন অনুসন্ধান ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রান্নার কাজে গৃহিণীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সিলিন্ডার গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয় সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদনে যেতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশব্যাপী লোডশেডিংয়ের রূপ নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে একে ডিজিটাল চাঁদাবাজি বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, তাদের কাছে শত শত ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও কপি রয়েছে। অতীতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্ভিস চার্জ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, বরং প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে নিয়মিত ডিমান্ড ও সার্ভিস চার্জ কাটা হচ্ছে। অর্থবছরের শেষ ভাগে এসে সিস্টেম লস কম দেখানোর কৌশল হিসেবে অনুমানভিত্তিক কম বিল প্রস্তুত করা হয় এবং পরবর্তী মাসে প্রকৃত মিটার দেখে অতিরিক্ত বিল চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি দূর করার পাশাপাশি গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিনিয়োগের দাবি জানান। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রশমিত করতে হলে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভুতুড়ে বিল বন্ধ এবং জনজীবনের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।