Hi

০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বনানীতে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা: নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩ সদস্য কারাগারে, ৪ কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণ

রাজধানীর ব্যস্ততম বনানী এলাকায় মধ্যরাতে ঝটিকা মিছিল বের করে নাশকতার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে তিনজনকে কারাগারে এবং চার কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই আদেশের রায় দেন। গ্রেপ্তার হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক তিন আসামি হলেন মো. আরিফ (১৯), মো. শাকিল আহমেদ (১৯) ও আশিক আহমেদ মোস্তফা (১৯)। তাদের তিনজনকেই আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি চার কিশোরকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠাতে বলা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তুষার আহমেদ আদালতের এই সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানানো হয়। আবেদনের গুরুত্ব ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করা হয়।

মামলার প্রাথমিক এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে বনানী থানার ডলফল ভাস্কর্য ও আর্মি স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি সুসংগঠিত দল অবৈধভাবে জড়ো হয়। সেখানে তারা ঝটিকা মশালমিছিল বের করে গোলযোগ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে বনানী থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ লোক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে মোট সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

অভিযানকালে অপরাধস্থলের পরিবেশ পর্যালোচনা করে এবং আলামত হিসেবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এজাহার অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে নাশকতায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা প্রায় ৭০টি মশাল, ১টি ব্যানার ও ৭৭টি ফেস মাস্ক জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিক হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আসামিদের রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুরের আবেদন প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে তারা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা এই ঝটিকা মিছিল ও অপপ্রচারের পরিকল্পনা করেছিল। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, অর্থায়নকারী ও নেপথ্যের মূল উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করতে আসামিদের পরবর্তী সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। জামিন দেওয়া হলে তারা পালিয়ে যেতে পারে এবং বিচারপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে—এমন শঙ্কায় আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বর্তমানে পলাতক অন্যান্য অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

গাজীপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: গলায় ছুরি চালিয়ে ১৭ ভরি সোনা ও নগদ লাখ টাকা লুট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বনানীতে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা: নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩ সদস্য কারাগারে, ৪ কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণ

আপডেট : ০৬:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ততম বনানী এলাকায় মধ্যরাতে ঝটিকা মিছিল বের করে নাশকতার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে তিনজনকে কারাগারে এবং চার কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই আদেশের রায় দেন। গ্রেপ্তার হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক তিন আসামি হলেন মো. আরিফ (১৯), মো. শাকিল আহমেদ (১৯) ও আশিক আহমেদ মোস্তফা (১৯)। তাদের তিনজনকেই আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি চার কিশোরকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠাতে বলা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তুষার আহমেদ আদালতের এই সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানানো হয়। আবেদনের গুরুত্ব ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করা হয়।

মামলার প্রাথমিক এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে বনানী থানার ডলফল ভাস্কর্য ও আর্মি স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি সুসংগঠিত দল অবৈধভাবে জড়ো হয়। সেখানে তারা ঝটিকা মশালমিছিল বের করে গোলযোগ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে বনানী থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ লোক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে মোট সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

অভিযানকালে অপরাধস্থলের পরিবেশ পর্যালোচনা করে এবং আলামত হিসেবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এজাহার অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে নাশকতায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা প্রায় ৭০টি মশাল, ১টি ব্যানার ও ৭৭টি ফেস মাস্ক জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিক হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আসামিদের রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুরের আবেদন প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে তারা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা এই ঝটিকা মিছিল ও অপপ্রচারের পরিকল্পনা করেছিল। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, অর্থায়নকারী ও নেপথ্যের মূল উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করতে আসামিদের পরবর্তী সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। জামিন দেওয়া হলে তারা পালিয়ে যেতে পারে এবং বিচারপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে—এমন শঙ্কায় আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বর্তমানে পলাতক অন্যান্য অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।