পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির দাম্পত্য জীবনে ভাঙনের সুর বাজছে বলে গত কয়েক দিন ধরেই জোর গুঞ্জন চলছিল। তাঁদের বিবাহের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় এই ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভক্তমহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই বিষয়ে নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছেন অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের চলমান সংকট এবং গণমাধ্যমের অতিরিক্ত নাক গলানো নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
চলতি বছরের ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসের মতো একটি বিশেষ দিনে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন রণজয় ও শ্যামৌপ্তি। তাঁদের এই বিয়ে নিয়ে টালিউড মহলে বেশ চর্চা হয়েছিল। কিন্তু সেই উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে আসে খুব দ্রুতই। বিয়ের পাঁচ মাস না পেরোতেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা রকম কানাঘুষা শুরু হয়। শোনা যাচ্ছিল, এই তারকা জুটি নাকি বর্তমানে আলাদা থাকছেন এবং তাঁদের বৈবাহিক জীবনে এক বড় ধরনের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যদিও এত দিন ধরে রণজয় অথবা শ্যামৌপ্তি, কেউই এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, যা জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অবশেষে শুটিং সেট থেকেই ধারণ করা একটি ভিডিওতে রণজয় বিষ্ণুকে আবেগপ্রবণ হয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে এমন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে কথা বলতে হবে।” গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে যে ‘কাদা-ছোড়াছুড়ি’ চলছে, তার তীব্র নিন্দা করে রণজয় বলেন, এটি মোটেই কাম্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি।” নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত বিশদভাবে আলোচনা করার কোনো আগ্রহ তাঁর নেই বলেও স্পষ্ট জানান অভিনেতা। ভিডিওতে রণজয়কে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত দেখা যায়। তিনি সমাজের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে বলেন, একজন নারী সম্পর্কে কোনো কথা বলার আগে আমাদের আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া উচিত। যে ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য ও গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তা শ্যামৌপ্তির প্রাপ্য নয়।
বিচ্ছেদের কারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা প্রসঙ্গে রণজয় দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা বিয়ে করেছি। আমাদের মধ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা নিজেদের মতো করেই সবটা বুঝে নেব।” তাঁর প্রশ্ন, “কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার কি আদৌ কোনো বাধ্যবাধকতা আছে?” তিনি করজোড়ে সকলের কাছে অনুরোধ করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আর জলঘোলা না করতে। রণজয় আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমাদের বাঁচতে দিন, আমাদের মতো করে ছেড়ে দিন। দম নিতে চাই। এত মিথ্যা রটনা আর নিতে পারছি না।”
দাম্পত্য জীবনের সংকট ছাড়াও রণজয়ের সঙ্গে তাঁর সহ-অভিনেত্রী অভিকা মালাকারের সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি জোর গুঞ্জন উঠেছে। এই বিষয়েও রণজয় তাঁর বিরক্তি প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “এই রটনার প্রমাণ কী?” তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন, ভালো থাকা বা খারাপ থাকা — সবকিছুই তাঁরা নিজেদের মতো করে সামলে নেবেন। এমন অনভিপ্রেত আলোচনা ও মিথ্যা রটনার তাঁরা কোনোভাবেই যোগ্য নন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই অভিনেতা। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি জনসাধারণের অতিরিক্ত কৌতূহল এবং ভিত্তিহীন গুজবের ফলে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে মারাত্মক প্রভাব পড়ে, রণজয়ের এই ভিডিও বার্তা তারই এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। তাঁর এই আবেগঘন বক্তব্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে তারকাদের প্রতি আরও সংবেদনশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
রিপোর্টার নাম: 























