Hi

০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন অস্ত্র ব্যবহারে সতর্ক করল ইরান

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ জন দেখেছে

ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালালে ইরান তাদের নতুন কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহার করে এর পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের সংঘাতের জবাব এমন হবে যা দেখে পুরো বিশ্ব চমকে যাবে।

মোহেব্বি ইরানের আরবি ভাষার সংবাদভিত্তিক চ্যানেল আল-আলমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে ইরান শুধু বর্তমান সমরশৈলী নয়, বরং নতুন লক্ষ্যবস্তু এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভৌগোলিক ও কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ইরান এতদিন যে অস্ত্রগুলো গোপনে রেখেছিল, তা এখন যুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সক্ষমতা বিশ্বকে বিস্মিত করার মতো হবে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান মজুত সরঞ্জাম ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনা কাজে লাগিয়ে ইরান নতুন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দাবি করেছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া সেই দাবির সত্যতাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর, ইরান তরল ও কঠিন—উভয় ধরনের জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় এখনো সক্রিয় রয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সামরিক আলোচনার সুযোগ তাদের নেই। এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। আইআরজিসি কেবল সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করায় মনোযোগী এবং কোনো ধরনের সমঝোতায় যাওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই বলে তিনি জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত পরাজিত হয়েছে এবং এটি তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক অপমান। তবে সেই পরাজয় প্রকাশ্যে স্বীকার করার সাহস ওয়াশিংটনের নেই বলেও মোহেব্বি মন্তব্য করেন। তিনি হরমুজ প্রণালিকেও যুদ্ধের অত্যন্ত স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। গত শনিবার তেহরান দাবি করে যে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো অশুভ পরিকল্পনা করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা হ্রাস পেলেও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এই যুদ্ধের উত্তাপ এখন আঞ্চলিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি–সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হাত থেকে নতুন এলাকা দখল করেছে এবং রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে থাকা অব্যবহৃত ও নতুন অস্ত্রশস্ত্র সংঘাতের মোড় যেকোনো সময় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আইআরজিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে এই কৌশলগত সম্পদগুলো ব্যবহার করা হবে, যা যুদ্ধের সমীকরণকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে তেহরানের সক্ষমতা ধংস হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দাবি তুলে ধরেছিল, তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় সাত মাস ধরে চলমান যুদ্ধের পর তেহরান ও ওয়াশিংটন এখনো এক অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে; যদিও কোনো পক্ষই আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না বলে ধারণা কোনো কোনো বিশ্লেষকের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত মাসের শেষ দিকে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা বাড়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ কিছুটা কমে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাপ সৃষ্টি করতে দুই পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজ নিজ অবরোধ বজায় রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নতুন অস্ত্র ব্যবহারে সতর্ক করল ইরান

আপডেট : ০৮:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালালে ইরান তাদের নতুন কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহার করে এর পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের সংঘাতের জবাব এমন হবে যা দেখে পুরো বিশ্ব চমকে যাবে।

মোহেব্বি ইরানের আরবি ভাষার সংবাদভিত্তিক চ্যানেল আল-আলমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে ইরান শুধু বর্তমান সমরশৈলী নয়, বরং নতুন লক্ষ্যবস্তু এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভৌগোলিক ও কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ইরান এতদিন যে অস্ত্রগুলো গোপনে রেখেছিল, তা এখন যুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সক্ষমতা বিশ্বকে বিস্মিত করার মতো হবে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান মজুত সরঞ্জাম ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনা কাজে লাগিয়ে ইরান নতুন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দাবি করেছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া সেই দাবির সত্যতাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর, ইরান তরল ও কঠিন—উভয় ধরনের জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় এখনো সক্রিয় রয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সামরিক আলোচনার সুযোগ তাদের নেই। এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। আইআরজিসি কেবল সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করায় মনোযোগী এবং কোনো ধরনের সমঝোতায় যাওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই বলে তিনি জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত পরাজিত হয়েছে এবং এটি তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক অপমান। তবে সেই পরাজয় প্রকাশ্যে স্বীকার করার সাহস ওয়াশিংটনের নেই বলেও মোহেব্বি মন্তব্য করেন। তিনি হরমুজ প্রণালিকেও যুদ্ধের অত্যন্ত স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। গত শনিবার তেহরান দাবি করে যে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো অশুভ পরিকল্পনা করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা হ্রাস পেলেও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এই যুদ্ধের উত্তাপ এখন আঞ্চলিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি–সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হাত থেকে নতুন এলাকা দখল করেছে এবং রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে থাকা অব্যবহৃত ও নতুন অস্ত্রশস্ত্র সংঘাতের মোড় যেকোনো সময় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আইআরজিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে এই কৌশলগত সম্পদগুলো ব্যবহার করা হবে, যা যুদ্ধের সমীকরণকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে তেহরানের সক্ষমতা ধংস হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দাবি তুলে ধরেছিল, তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় সাত মাস ধরে চলমান যুদ্ধের পর তেহরান ও ওয়াশিংটন এখনো এক অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে; যদিও কোনো পক্ষই আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না বলে ধারণা কোনো কোনো বিশ্লেষকের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত মাসের শেষ দিকে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা বাড়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ কিছুটা কমে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাপ সৃষ্টি করতে দুই পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজ নিজ অবরোধ বজায় রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।