বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুম করার নেপথ্যে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনি লড়াই পরিচালনাকারী চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত আবেদনটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও অনুসন্ধানে উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে ওই চাঞ্চল্যকর গুমের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার জোরালো প্রমাণ ও তথ্য মিলেছে। এর ফলশ্রুতিতে আদালতের মাধ্যমে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানী থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপির প্রভাবশালী সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। তার সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন তার গাড়িচালক আনসার আলীও। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই হাই-প্রোফাইল গুমের ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করে আসছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও এতদিন এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম গতিশীল হওয়ায় এই মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহকে ব্যবহার করে যে গোপন আটককেন্দ্র বা গুমের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল, তার নেপথ্য নায়কদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রসিকিউটর টিম কাজ করে যাচ্ছে। উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা। আগামীতে এই মামলার শুনানিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মীর আলাউদ্দিন 






















