Hi

১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ জন দেখেছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। বর্তমানে পলাতক এই সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রমাণিত দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত সাতজন হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করতে এসব নেতা সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা এবং সমন্বিত নির্দেশ দিয়েছিলেন। গোপন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, অস্ত্রসহ নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে তাদের সক্রিয় ভূমিকার তথ্য উঠে এসেছে শুনানিতে।

বিচারিক প্রক্রিয়ার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ জুন এই মামলার তদন্ত শুরু হয় এবং ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা পড়ে। ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর আসামিরা পলাতক থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও ১২৩ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ নথি আদালতে প্রদর্শন করা হয়েছে, যার মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগের জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৪ আগস্ট থেকে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। টানা ৯ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) ঘোষণা করেছিলেন আদালত। আজ মঙ্গলবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রায় প্রদান করা হবে। চাকরির আরও তথ্য: ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন দাখিল হলে আদালত তা আমলে নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

জনপ্রিয়

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ

আপডেট : ১১:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। বর্তমানে পলাতক এই সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রমাণিত দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত সাতজন হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করতে এসব নেতা সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা এবং সমন্বিত নির্দেশ দিয়েছিলেন। গোপন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, অস্ত্রসহ নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে তাদের সক্রিয় ভূমিকার তথ্য উঠে এসেছে শুনানিতে।

বিচারিক প্রক্রিয়ার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ জুন এই মামলার তদন্ত শুরু হয় এবং ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা পড়ে। ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর আসামিরা পলাতক থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও ১২৩ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ নথি আদালতে প্রদর্শন করা হয়েছে, যার মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগের জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৪ আগস্ট থেকে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। টানা ৯ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) ঘোষণা করেছিলেন আদালত। আজ মঙ্গলবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রায় প্রদান করা হবে। চাকরির আরও তথ্য: ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন দাখিল হলে আদালত তা আমলে নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।