Hi

১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোর্ডিং পাস পেয়েও বিমানে উঠতে বাধা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

বোর্ডিং পাস পাওয়ার পরও মাত্র ১০ মাসের এক স্তন্যপায়ী শিশুকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কাতার এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কেরলের ভোক্তা কমিশন। আদালত যাত্রীদের সাথে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের এমন আচরণকে অত্যন্ত অমানবিক ও পরিষেবায় গুরুতর ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে এই অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জন্য এয়ারলাইন্সটিকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইতালিতে বসবাসরত এক ভারতীয় পরিবার কোচি বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। এয়ারলাইন্স কর্মীরা যাত্রীদের সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পর তাদের বোর্ডিং পাসও ইস্যু করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ওই পরিবারের দুই শিশুকে—যার মধ্যে একজন ১০ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু—বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।

কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়া হঠাৎ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় পরিবারটি চরম হয়রানি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়। ভুক্তভোগী পরিবার শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। মামলার শুনানিতে কেরলের উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে নথি যাচাই করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করার পর কোনো কারণ ছাড়া যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে ভ্রমণরত পরিবারের সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

আদালত কাতার এয়ারওয়েজকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং মামলার খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করা না হলে তা সুদাসলে দিতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও একতরফা সিদ্ধান্তে যাত্রীদের বিমানে উঠতে বাধা দিলে যে এয়ারলাইন্সগুলোকে আর্থিক মাশুল গুনতে হবে, এই রায়ে তা আবারও নিশ্চিত হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

জনপ্রিয়

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বোর্ডিং পাস পেয়েও বিমানে উঠতে বাধা

আপডেট : ১০:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বোর্ডিং পাস পাওয়ার পরও মাত্র ১০ মাসের এক স্তন্যপায়ী শিশুকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কাতার এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কেরলের ভোক্তা কমিশন। আদালত যাত্রীদের সাথে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের এমন আচরণকে অত্যন্ত অমানবিক ও পরিষেবায় গুরুতর ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে এই অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জন্য এয়ারলাইন্সটিকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইতালিতে বসবাসরত এক ভারতীয় পরিবার কোচি বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। এয়ারলাইন্স কর্মীরা যাত্রীদের সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পর তাদের বোর্ডিং পাসও ইস্যু করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ওই পরিবারের দুই শিশুকে—যার মধ্যে একজন ১০ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু—বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।

কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়া হঠাৎ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় পরিবারটি চরম হয়রানি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়। ভুক্তভোগী পরিবার শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। মামলার শুনানিতে কেরলের উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে নথি যাচাই করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করার পর কোনো কারণ ছাড়া যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে ভ্রমণরত পরিবারের সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

আদালত কাতার এয়ারওয়েজকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং মামলার খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করা না হলে তা সুদাসলে দিতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও একতরফা সিদ্ধান্তে যাত্রীদের বিমানে উঠতে বাধা দিলে যে এয়ারলাইন্সগুলোকে আর্থিক মাশুল গুনতে হবে, এই রায়ে তা আবারও নিশ্চিত হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।