মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা সীমান্ত দিয়ে গতকাল শুক্রবার ভোরে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর একটি প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১৩৫/৪-এস এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির টহল দলের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের কারণে তাদের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই পাঁচ ব্যক্তি বর্তমানে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে, নো-ম্যানস-ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোর ৪টার দিকে সীমান্ত এলাকার পাট কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা আকস্মিকভাবে বিএসএফের কাঁটাতারের গেট খুলতে দেখেন। অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে পারে অনুমান করে তাদের মধ্যে কয়েকজন তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে বিষয়টি অবহিত করেন। দ্রুত খবর পেয়ে ধলা বিজিবি বিওপির টহল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিরোধের জন্য তৎপরতা বাড়ান। বিজিবির এই উপস্থিতি টের পেয়ে ভারত থেকে আসা ব্যক্তিরা বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ না করেই ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যান এবং কাঁটাতারের বেড়ার কাছে অবস্থান নেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল ভোরে টহল দলের সদস্যরা ভারতের দিক থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের সীমানার দিকে অগ্রসর হতে দেখেন। সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেন এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। ঠেলে পাঠানোর শিকার হওয়া এই পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং একজন নারী রয়েছেন। এ ধরনের ‘পুশ-ইন’ বা ঠেলে পাঠানোর ঘটনা সীমান্তে নতুন নয়, তবে বিজিবি এক্ষেত্রে বরাবরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে থাকে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাধাগোবিন্দপুর ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার শিশির কুমার সরকার বলেন, “বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসীর সতর্ক নজরদারি এবং বিজিবির নিরবচ্ছিন্ন ও কঠোর তৎপরতার কারণে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে পারেননি।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে এবং কড়া পাহারা বজায় রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো প্রচেষ্টা সফল না হতে পারে।
৪নং বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর বিরুদ্ধে বিজিবি বরাবরই কঠোর অবস্থান বজায় রাখে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী সজাগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তি এবং প্রোটোকলের পরিপন্থী, যা উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর।
রিপোর্টার নাম: 




















