Hi

১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ৫ দফা প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, মানবিক সহায়তার উদারতা কখনোই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের বিশাল দায়িত্ব বহন করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে নেতৃত্ব দেয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দীর্ঘ নয় বছর ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মানবিক দায়িত্ব পালন করছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের নতুন সংকটের পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের অবস্থান স্থানীয় কক্সবাজার অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।

সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মানবিক সহায়তার আবেদন কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা সংকট নিরসনে বাধা সৃষ্টি করছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো রাখাইন রাজ্যকে প্রত্যাবাসনের অনুপযুক্ত করে রেখেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। প্রথমত, প্রত্যাবাসনের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই রোডম্যাপ প্রণয়ন করা। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত মানবিক সহায়তা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা দেওয়া।

চতুর্থ প্রস্তাব হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইসিজে ও আইসিসি-সহ আন্তর্জাতিক বিচারিক কাঠামোকে সহায়তা অব্যাহত রেখে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে, মাদক, মানবপাচার ও অবৈধ অস্ত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত থাকুক, তাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বের সময় এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশই বহন করবে—এমনটি প্রত্যাশা করা যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর সংকট আরও অবনতি ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল এবং তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাদানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য শিবিরগুলো কোনো আদর্শ স্থান নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিপুল চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ প্রয়োজন বাড়লেও মানবিক সহায়তার পরিমাণ সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুঃখজনকভাবে রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

জনপ্রিয়

উত্তরপ্রদেশে অগ্নিকাণ্ডে ৯ যাত্রীর প্রাণহানি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ৫ দফা প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক

আপডেট : ১০:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, মানবিক সহায়তার উদারতা কখনোই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের বিশাল দায়িত্ব বহন করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে নেতৃত্ব দেয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দীর্ঘ নয় বছর ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মানবিক দায়িত্ব পালন করছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের নতুন সংকটের পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের অবস্থান স্থানীয় কক্সবাজার অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।

সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মানবিক সহায়তার আবেদন কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা সংকট নিরসনে বাধা সৃষ্টি করছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো রাখাইন রাজ্যকে প্রত্যাবাসনের অনুপযুক্ত করে রেখেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। প্রথমত, প্রত্যাবাসনের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই রোডম্যাপ প্রণয়ন করা। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত মানবিক সহায়তা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা দেওয়া।

চতুর্থ প্রস্তাব হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইসিজে ও আইসিসি-সহ আন্তর্জাতিক বিচারিক কাঠামোকে সহায়তা অব্যাহত রেখে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে, মাদক, মানবপাচার ও অবৈধ অস্ত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত থাকুক, তাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বের সময় এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশই বহন করবে—এমনটি প্রত্যাশা করা যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর সংকট আরও অবনতি ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল এবং তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাদানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য শিবিরগুলো কোনো আদর্শ স্থান নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিপুল চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ প্রয়োজন বাড়লেও মানবিক সহায়তার পরিমাণ সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুঃখজনকভাবে রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক।