Hi

০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসাইলে সেতু নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার: প্রকৌশলী স্ট্যান্ড রিলিজ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

টাঙ্গাইলের বাসাইলে মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই অনিয়মের দায়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ঐ দিন অপরাহ্ণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

সেতু নির্মাণে দুর্নীতির দায়ে ইতিমধ্যে সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করছিলেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে সে সময় কাজ বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পর রাতে আবার কাজ চালিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারের প্রধান আসামি এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

তদন্তের স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার প্রকৌশলী রবিউল আলম ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে। ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর দ্রুত পরিদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ তদন্ত চলছে।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘটনাটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তিনি জানান, প্রাথমিক অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। ফুটপাত ও রেলিংয়ের পিলারে প্রয়োজনের তুলনায় রডের উপস্থিতি কম পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞ টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করবে।

এলজিইডি কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনিয়মের সাথে জড়িত অভিযোগে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চাকরির তথ্যে যোগ হল: বেতন স্কেল: ে বদলি করা হইল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্ণিত কর্মকর্তা আগামী ২৭-০৯-২০২৬ খ্রি। চাকরির আরও তথ্য: একই সাথে আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব (৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না করা পর্যন্ত) প্রদান করা হইল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে, সেতুতে বাঁশ কাণ্ডের ঘটনাটি এখন সারাদেশে বেশ আলোচনার কেন্দুবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুদক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইলের কার্যালয় থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাসাইলে সেতু নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার: প্রকৌশলী স্ট্যান্ড রিলিজ

আপডেট : ০৪:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের বাসাইলে মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই অনিয়মের দায়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ঐ দিন অপরাহ্ণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

সেতু নির্মাণে দুর্নীতির দায়ে ইতিমধ্যে সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করছিলেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে সে সময় কাজ বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পর রাতে আবার কাজ চালিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারের প্রধান আসামি এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

তদন্তের স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার প্রকৌশলী রবিউল আলম ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে। ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর দ্রুত পরিদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ তদন্ত চলছে।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘটনাটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তিনি জানান, প্রাথমিক অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। ফুটপাত ও রেলিংয়ের পিলারে প্রয়োজনের তুলনায় রডের উপস্থিতি কম পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞ টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করবে।

এলজিইডি কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনিয়মের সাথে জড়িত অভিযোগে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চাকরির তথ্যে যোগ হল: বেতন স্কেল: ে বদলি করা হইল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্ণিত কর্মকর্তা আগামী ২৭-০৯-২০২৬ খ্রি। চাকরির আরও তথ্য: একই সাথে আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব (৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না করা পর্যন্ত) প্রদান করা হইল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে, সেতুতে বাঁশ কাণ্ডের ঘটনাটি এখন সারাদেশে বেশ আলোচনার কেন্দুবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুদক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইলের কার্যালয় থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।