Hi

১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কার্টার থেকে ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য কেন এক বড় ধাঁধা হয়ে রইল ইরান?

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ জন দেখেছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক দরকষাকষিতে ইরান ‘অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারণা’ করছে বলে বারবার অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিদ্বন্দ্বী তেহরানের নেতাদের রাজনৈতিক আচরণ ও কৌশল বুঝতে না পারার এই ব্যর্থতা কেবল বর্তমান প্রশাসনের এককের নয়, বরং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে হোয়াইট হাউসের প্রতিটি প্রশাসনের জন্যই এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বড় সংকট হিসেবে বজায় রয়েছে। ট্রাম্প নিজেকে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা শনাক্তকরণ ও তা কাজে লাগানোর একজন পারদর্শী কৌশলবিদ মনে করলেও, ইরানের জটিল শাসনকাঠামো তাঁর সব হিসাব ও পরিকল্পনাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং শুল্ক আদায় সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও, তেহরানের কঠোর ও অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছে। ইরানের সঙ্গে একটি সুবিধাজনক চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণভাবে চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প, বিশেষ করে যুদ্ধক্লান্ত ভোটারদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা কমছে। একই সঙ্গে এই ভূরাজনৈতিক অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন ভোক্তাদের ওপর।

ঐতিহাসিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের শাসনব্যবস্থার মানসিকতা অনুধাবনে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যর্থতার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। জিমি কার্টার থেকে শুরু করে রোনাল্ড রিগ্যান, বিল ক্লিনটন থেকে বারাক ওবা ম—সব নেতাই তেহরানের গোপন ও ধোঁয়াশাপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির নাগাল পেতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন। একমাত্র ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবা ম, যিনি দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। যদিও সেই চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরের মধ্যেই তীব্র সমালোচনা ছিল, তবুও ওবা ম একে তাঁর অন্যতম বড় বৈদেশিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করতেন। তবে সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো বিগত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে তেহরানকে সবচেয়ে কম অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি একদিকে চুক্তির জন্য চরম ব্যাকুলতা দেখিয়েছেন, অন্যদিকে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দূরত্ব আরও বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানি জনসাধারণকে সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচন করে দেবে। কিন্তু ট্রাম্পের সেই আশা বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো ইরানের কট্টরপন্থী সরকার আরও সুসংহত হয়েছে এবং আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা ও কর্মকর্তাদের মতে, মোজতবা তাঁর বাবার চেয়েও অনেক বেশি রক্ষণশীল এবং দেশটির পরমাণু অস্ত্র অর্জনের উচ্চাভিলাষকে আরও জোরদার করেছেন। হোয়াইট হাউসের বারবার প্রকাশ্য প্রস্তাব ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নতুন তেহরান নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের কোনো হুমকিতে কর্ণপাত করেনি।

ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর গভীরে প্রোথিত এই অনমনীয় মনোভাবের মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের অনুপস্থিতি। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনির মতে, মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা যুগের পর যুগ ধরে ইরানের আদর্শিক প্রতিশ্রুতি এবং তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ভিত্তিকে অবমূল্যায়ন করে আসছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো মার্কিন কর্মকর্তা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সশরীর সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। আধা-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন প্রেসিডেন্ট ও সংসদ থাকলেও চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীন। ফলে অতীতে ওয়াশিংটন ইরানের কোনো সংস্কারপন্থী বা মধ্যপন্থী নেতার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত তা শুধু হতাশা ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। দীর্ঘ মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণ কূটনীতিক ডেনিস রস তাই যথাযথই মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যতটা ইরানকে বোঝে, তার চেয়ে ঢের বেশি নিখুঁতভাবে ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার জিম্মি সংকট নিরসনে তেহরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেও আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণায় চরমভাবে হোঁচট খেয়েছিলেন। একইভাবে, ১৯৮৫ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান লেবাননে মার্কিন জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইরানের কাছে গোপনে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়ে পরবর্তীতে কুখ্যাত ‘ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি’র মুখে পড়েছিলেন। সেই অস্ত্র বিক্রির অর্থ নিকারাগুয়ার কমিউনিস্ট-বিরোধী বিদ্রোহী তহবিলে প্রেরণের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে রিগ্যানের প্রশাসন বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়ে। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন কিংবা জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতিটি প্রচেষ্টাই তেহরানের দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক কৌশলের আড়ালে হারিয়ে গেছে। পরিশেষে, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য ইরান কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, বরং মার্কিন কূটনীতির এক জটিল ও অমীমাংসিত প্রহেলিকা হয়েই টিকে রয়েছে।

জনপ্রিয়

গাজীপুরে যাত্রীবেশে অটোরিকশাচালককে নির্মমভাবে হত্যা, ছিনতাইচেষ্টা ব্যর্থ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কার্টার থেকে ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য কেন এক বড় ধাঁধা হয়ে রইল ইরান?

আপডেট : ০৯:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক দরকষাকষিতে ইরান ‘অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারণা’ করছে বলে বারবার অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিদ্বন্দ্বী তেহরানের নেতাদের রাজনৈতিক আচরণ ও কৌশল বুঝতে না পারার এই ব্যর্থতা কেবল বর্তমান প্রশাসনের এককের নয়, বরং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে হোয়াইট হাউসের প্রতিটি প্রশাসনের জন্যই এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বড় সংকট হিসেবে বজায় রয়েছে। ট্রাম্প নিজেকে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা শনাক্তকরণ ও তা কাজে লাগানোর একজন পারদর্শী কৌশলবিদ মনে করলেও, ইরানের জটিল শাসনকাঠামো তাঁর সব হিসাব ও পরিকল্পনাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং শুল্ক আদায় সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও, তেহরানের কঠোর ও অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছে। ইরানের সঙ্গে একটি সুবিধাজনক চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণভাবে চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প, বিশেষ করে যুদ্ধক্লান্ত ভোটারদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা কমছে। একই সঙ্গে এই ভূরাজনৈতিক অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন ভোক্তাদের ওপর।

ঐতিহাসিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের শাসনব্যবস্থার মানসিকতা অনুধাবনে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যর্থতার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। জিমি কার্টার থেকে শুরু করে রোনাল্ড রিগ্যান, বিল ক্লিনটন থেকে বারাক ওবা ম—সব নেতাই তেহরানের গোপন ও ধোঁয়াশাপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির নাগাল পেতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন। একমাত্র ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবা ম, যিনি দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। যদিও সেই চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরের মধ্যেই তীব্র সমালোচনা ছিল, তবুও ওবা ম একে তাঁর অন্যতম বড় বৈদেশিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করতেন। তবে সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো বিগত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে তেহরানকে সবচেয়ে কম অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি একদিকে চুক্তির জন্য চরম ব্যাকুলতা দেখিয়েছেন, অন্যদিকে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দূরত্ব আরও বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানি জনসাধারণকে সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচন করে দেবে। কিন্তু ট্রাম্পের সেই আশা বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো ইরানের কট্টরপন্থী সরকার আরও সুসংহত হয়েছে এবং আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা ও কর্মকর্তাদের মতে, মোজতবা তাঁর বাবার চেয়েও অনেক বেশি রক্ষণশীল এবং দেশটির পরমাণু অস্ত্র অর্জনের উচ্চাভিলাষকে আরও জোরদার করেছেন। হোয়াইট হাউসের বারবার প্রকাশ্য প্রস্তাব ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নতুন তেহরান নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের কোনো হুমকিতে কর্ণপাত করেনি।

ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর গভীরে প্রোথিত এই অনমনীয় মনোভাবের মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের অনুপস্থিতি। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনির মতে, মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা যুগের পর যুগ ধরে ইরানের আদর্শিক প্রতিশ্রুতি এবং তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ভিত্তিকে অবমূল্যায়ন করে আসছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো মার্কিন কর্মকর্তা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সশরীর সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। আধা-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন প্রেসিডেন্ট ও সংসদ থাকলেও চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীন। ফলে অতীতে ওয়াশিংটন ইরানের কোনো সংস্কারপন্থী বা মধ্যপন্থী নেতার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত তা শুধু হতাশা ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। দীর্ঘ মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণ কূটনীতিক ডেনিস রস তাই যথাযথই মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যতটা ইরানকে বোঝে, তার চেয়ে ঢের বেশি নিখুঁতভাবে ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার জিম্মি সংকট নিরসনে তেহরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেও আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণায় চরমভাবে হোঁচট খেয়েছিলেন। একইভাবে, ১৯৮৫ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান লেবাননে মার্কিন জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইরানের কাছে গোপনে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়ে পরবর্তীতে কুখ্যাত ‘ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি’র মুখে পড়েছিলেন। সেই অস্ত্র বিক্রির অর্থ নিকারাগুয়ার কমিউনিস্ট-বিরোধী বিদ্রোহী তহবিলে প্রেরণের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে রিগ্যানের প্রশাসন বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়ে। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন কিংবা জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতিটি প্রচেষ্টাই তেহরানের দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক কৌশলের আড়ালে হারিয়ে গেছে। পরিশেষে, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য ইরান কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, বরং মার্কিন কূটনীতির এক জটিল ও অমীমাংসিত প্রহেলিকা হয়েই টিকে রয়েছে।