Hi

০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তীব্র লড়াই: রাখাইনের বিমান হামলায় কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মংডু শহরসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় জান্তা বাহিনীর তীব্র বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলার বিকট শব্দে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে কম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ এবং উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের বাসিন্দারা গত কয়েক রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা কামানের গোলা ও যুদ্ধবিমানের গর্জন স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আরাকান আর্মির অগ্রযাত্রাকে রুখতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের আকাশপথের শক্তিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। মংডুর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জান্তা বাহিনী কৌশলগত অবস্থানে থাকা বিদ্রোহী ঘাঁটি লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে লড়াই তীব্র হওয়ায় নতুন করে কোনো শরণার্থী যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য কোস্ট গার্ড ও বিজিবিকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, রাখাইনের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে এই সংঘাতের কোনো নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের ভূখণ্ডে না পড়ে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান কঠোর হাতে দমন করা যায়। সীমান্তের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

জনপ্রিয়

রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ? ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে পর্তুগাল শিবিরে আবেগ ও সংকল্প

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তীব্র লড়াই: রাখাইনের বিমান হামলায় কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

আপডেট : ১১:০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মংডু শহরসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় জান্তা বাহিনীর তীব্র বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলার বিকট শব্দে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে কম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ এবং উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের বাসিন্দারা গত কয়েক রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা কামানের গোলা ও যুদ্ধবিমানের গর্জন স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আরাকান আর্মির অগ্রযাত্রাকে রুখতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের আকাশপথের শক্তিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। মংডুর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জান্তা বাহিনী কৌশলগত অবস্থানে থাকা বিদ্রোহী ঘাঁটি লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে লড়াই তীব্র হওয়ায় নতুন করে কোনো শরণার্থী যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য কোস্ট গার্ড ও বিজিবিকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, রাখাইনের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে এই সংঘাতের কোনো নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের ভূখণ্ডে না পড়ে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান কঠোর হাতে দমন করা যায়। সীমান্তের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।