Hi

০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে প্রাণ গেল দুই নারী শ্রমিকের

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পলি দত্ত (৩৬) ও ইফা শীল (৩৫) নামে দুই নারী শ্রমিক। বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারের টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।

নিহত পলি দত্তের স্বামী কাজল দত্ত জানান, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীর ফেরার অপেক্ষায় ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ওপাশ থেকে এক অচেনা ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে জানান, ‘মোবাইলের মালিক মারা গেছেন’। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গিয়ে কাজল দত্ত তাঁর স্ত্রীর নিথর দেহ শনাক্ত করেন। পলি দত্ত গত ১২ বছর ধরে চট্টগ্রামের কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) কর্মরত ছিলেন। তাঁর আয়েই চলত চার সদস্যের সংসার এবং দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ। পলি দত্তের অকাল মৃত্যুতে দুই ছেলে সৈকত ও বিজয় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

দুর্ঘটনায় নিহত আরেকজন হলেন ইফা শীল। তিনি বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরী গ্রামের শিমুল শীলের স্ত্রী। ১৩ বছর ধরে তিনি একই কারখানায় কাজ করতেন। ইফার স্বামী শিমুল শীল জানান, বড় মেয়ের বিয়ের জন্য নেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি। ছোট মেয়ে রাধিকা এখনো জানে না যে তার মা আর কোনোদিন বাড়ি ফিরবেন না। অভাবের সংসারে স্ত্রীর উপার্জনই ছিল বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন, যা এখন চিরতরে হারিয়ে গেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেইপিজেড থেকে শ্রমিকদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে পিষ্ট করে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা বাসটি বেশ কয়েকটি যানবাহনের ওপর উঠে যাওয়ায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মস্থলে গিয়ে পরিবারের জন্য উপার্জন করতে গিয়ে এভাবে পথে প্রাণ হারানোর ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয়

নীতি সুদহার হ্রাস: অর্থনীতির জটিল সংকট নিরসনে কি এটিই যথেষ্ট?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আনোয়ারায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে প্রাণ গেল দুই নারী শ্রমিকের

আপডেট : ০৫:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পলি দত্ত (৩৬) ও ইফা শীল (৩৫) নামে দুই নারী শ্রমিক। বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারের টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।

নিহত পলি দত্তের স্বামী কাজল দত্ত জানান, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীর ফেরার অপেক্ষায় ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ওপাশ থেকে এক অচেনা ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে জানান, ‘মোবাইলের মালিক মারা গেছেন’। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গিয়ে কাজল দত্ত তাঁর স্ত্রীর নিথর দেহ শনাক্ত করেন। পলি দত্ত গত ১২ বছর ধরে চট্টগ্রামের কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) কর্মরত ছিলেন। তাঁর আয়েই চলত চার সদস্যের সংসার এবং দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ। পলি দত্তের অকাল মৃত্যুতে দুই ছেলে সৈকত ও বিজয় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

দুর্ঘটনায় নিহত আরেকজন হলেন ইফা শীল। তিনি বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরী গ্রামের শিমুল শীলের স্ত্রী। ১৩ বছর ধরে তিনি একই কারখানায় কাজ করতেন। ইফার স্বামী শিমুল শীল জানান, বড় মেয়ের বিয়ের জন্য নেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি। ছোট মেয়ে রাধিকা এখনো জানে না যে তার মা আর কোনোদিন বাড়ি ফিরবেন না। অভাবের সংসারে স্ত্রীর উপার্জনই ছিল বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন, যা এখন চিরতরে হারিয়ে গেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেইপিজেড থেকে শ্রমিকদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে পিষ্ট করে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা বাসটি বেশ কয়েকটি যানবাহনের ওপর উঠে যাওয়ায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মস্থলে গিয়ে পরিবারের জন্য উপার্জন করতে গিয়ে এভাবে পথে প্রাণ হারানোর ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।