চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁ ও হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সম্প্রতি পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে, চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা এলাকার পরিচিত ‘হান্ডি রেস্তোরাঁ’ সহ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, রান্নার উপকরণে তেলাপোকার উপস্থিতি এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে এই অভিযানে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে হান্ডি রেস্তোরাঁয় গিয়ে কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে যান। রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে কেবল তেলাপোকা দৌড়াদৌড়ি করছিল না, রান্না করা স্যুপের পাত্রেও মরা তেলাপোকা পাওয়া যায়। এটি একটি অভিজাত রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। খাবারের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এই ঘটনার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে। এই গুরুতর অপরাধে হান্ডি রেস্তোরাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিনে পরিচালিত এই অভিযানে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার আওতায় আনা হয়। জামান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা এবং সিপি ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে পোড়া তেল পুনরায় ব্যবহার এবং সামগ্রিকভাবে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পোড়া তেল ব্যবহার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং বিভিন্ন গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কারণ হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বারবার সতর্কবাণী সত্ত্বেও অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অবিরতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অভিযান প্রসঙ্গে মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “হান্ডি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে খাবার ও খাবার তৈরির উপকরণে তেলাপোকা পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়াও, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের প্রমাণও মেলে। একই অভিযানে পোড়া তেল ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা করা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করে কোনো প্রতিষ্ঠানই পার পাবে না।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এটি একটি কড়া বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে, যে রেস্তোরাঁগুলো নিজেদের ‘অভিজাত’ বলে দাবি করে এবং উচ্চমূল্যে খাবার পরিবেশন করে, তাদের ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম আরও বেশি নিন্দনীয়। ভোক্তারা এখন আরও সচেতন হচ্ছেন এবং মানহীন খাবার পেলে দ্রুত অভিযোগ জানাচ্ছেন, যা এই ধরনের অভিযানের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর, যাতে খাদ্যমানের ক্ষেত্রে কোনো আপস না হয়।
রিপোর্টার নাম: 






















