Hi

০৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাকাশে গোপন অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছে

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবার মহাকাশও পরিণত হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের নতুন ময়দানে। প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মহাশূন্যে নিজেদের আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানান, পৃথিবীর কক্ষপথে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সুরক্ষায় বিশেষ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ যোগ দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ট্রয় মেইঙ্ক। তিনি বলেন, মহাকাশে শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের বৈরী কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে এবং বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনশীল সামরিক হুমকি মোকাবিলায় এই গোপন অস্ত্র মোতায়েন করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। তবে কৌশলগত নিরাপত্তাজনিত কারণে এই অস্ত্রের কার্যক্ষমতা কিংবা এটি উৎক্ষেপণের সময়কাল নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশভিত্তিক সামরিক তৎপরতাকে দায়ী করছে পেন্টাগন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি এবং ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইটে হামলা চালিয়ে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রকে অচল করে দেওয়ার প্রযুক্তি তৈরি করছে ওই দুই পরাশক্তি। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর ও আক্রমণাত্মক অস্ত্র স্থাপনকে প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর কক্ষপথে গণবিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিত ক্ষমতার স্যাটেলাইটবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন একে অপরের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ শাখা ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ জানিয়েছে, মহাকাশে বৈরী শক্তির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করতে তাদের জয়েন্ট কমান্ড আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিতেই পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এই খবরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মার্কিন রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যু। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদের মালিকানা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, যা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। পাশাপাশি তুরস্কে ঘুরতে আসা এক দক্ষিণ কোরীয় নারীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে দেশীয় প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড এবং মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক সাবেক এমপিকে আটকের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরেও শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রান্তের অন্যান্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে সান ডিয়েগোর এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের উচ্চমূল্য। পাশাপাশি কর্মী ভিসার নতুন নিয়মের কারণে চাকরির ঝুঁকিতে থাকা প্রবাসীদের উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে আসছে সংবাদের শিরোনামে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সান ডিয়েগোর এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে জানালেন ট্রাম্প।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মহাকাশে গোপন অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৪:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবার মহাকাশও পরিণত হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের নতুন ময়দানে। প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মহাশূন্যে নিজেদের আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানান, পৃথিবীর কক্ষপথে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সুরক্ষায় বিশেষ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ যোগ দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ট্রয় মেইঙ্ক। তিনি বলেন, মহাকাশে শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের বৈরী কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে এবং বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনশীল সামরিক হুমকি মোকাবিলায় এই গোপন অস্ত্র মোতায়েন করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। তবে কৌশলগত নিরাপত্তাজনিত কারণে এই অস্ত্রের কার্যক্ষমতা কিংবা এটি উৎক্ষেপণের সময়কাল নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশভিত্তিক সামরিক তৎপরতাকে দায়ী করছে পেন্টাগন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি এবং ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইটে হামলা চালিয়ে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রকে অচল করে দেওয়ার প্রযুক্তি তৈরি করছে ওই দুই পরাশক্তি। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর ও আক্রমণাত্মক অস্ত্র স্থাপনকে প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর কক্ষপথে গণবিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিত ক্ষমতার স্যাটেলাইটবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন একে অপরের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ শাখা ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ জানিয়েছে, মহাকাশে বৈরী শক্তির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করতে তাদের জয়েন্ট কমান্ড আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিতেই পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এই খবরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মার্কিন রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যু। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদের মালিকানা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, যা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। পাশাপাশি তুরস্কে ঘুরতে আসা এক দক্ষিণ কোরীয় নারীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে দেশীয় প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড এবং মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক সাবেক এমপিকে আটকের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরেও শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রান্তের অন্যান্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে সান ডিয়েগোর এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের উচ্চমূল্য। পাশাপাশি কর্মী ভিসার নতুন নিয়মের কারণে চাকরির ঝুঁকিতে থাকা প্রবাসীদের উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে আসছে সংবাদের শিরোনামে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সান ডিয়েগোর এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে জানালেন ট্রাম্প।