Hi

০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ খুললেও এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি পরিস্থিতি সহসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা সোমবার জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও আকাশচুম্বী বিমা ব্যয়ের কারণে আগামী কয়েক মাস বা বছরজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে।

ব্যাংককে আয়োজিত গ্যাসটেক কনফারেন্সে শেল-এর ইন্টিগ্রেটেড গ্যাসের প্রেসিডেন্ট সেডেরিক ক্রেমার্স বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া—এই দুটি ভিন্ন বিষয়। যুদ্ধের আগের অবস্থায় গ্যাসের প্রবাহ ফিরতে আরও অনেক সময়ের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হলেও নিয়মিত সামুদ্রিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।

কাতারের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে ইরানি হামলায়। দেশটির ১৪টি রফতানি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১৭ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা প্রতি বছর বাজারে ১২৮ মিলিয়ন টন গ্যাসের ঘাটতি তৈরি করেছে। কাতার এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, এই মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) তথ্যানুযায়ী, কাতার ও আমিরাতের এলএনজি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি, যার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়েছিল। ক্রেমার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই দুই দেশ থেকে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন টন সরবরাহ বাজারে অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন টন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নতুন উৎস থেকে এলেও বাকি ঘাটতি চাহিদা হ্রাস ও মজুদ থেকে পূরণ করতে হয়েছে।

আইইএফ ও জাপানের জোগমেকের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে উদ্বৃত্ত তরলীকরণ ক্ষমতা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী এলএনজি প্রতিস্থাপনের জন্য অপর্যাপ্ত ছিল, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন টন গ্যাসের ব্যবধান তৈরি করেছে। যুদ্ধের ঝুঁকি ও বিমা খরচ বেশি হওয়ায় ট্যাংকারগুলো পারস্য উপসাগরে ফিরতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এই জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপে। বিশেষ করে ভারত তার এলএনজির প্রায় ৭৫ শতাংশ হরমুজ রুট থেকে সংগ্রহ করত। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশের জন্য তা ৭১ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট এই বিঘ্ন ইউরোপের শীতকালীন জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যেখানে এশীয় ক্রেতারা বিকল্প কার্গোর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানেরহরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহসপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধের ঝুঁকির বিমা ব্যয় বেশি থাকা এবং নিরাপত্তার শঙ্কা বজায় থাকায় এলএনজি ট্যাংকারগুলোও পারস্য উপসাগরে ফিরে আসতে ধীরগতি দেখাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহাদেশ জুড়ে গ্যাসের মজুদ ঐতিহাসিক কম স্তরে রয়েছে, অন্যদিকে এশীয় ক্রেতারা বিকল্প কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হরমুজ খুললেও এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম

আপডেট : ০৫:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি পরিস্থিতি সহসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা সোমবার জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও আকাশচুম্বী বিমা ব্যয়ের কারণে আগামী কয়েক মাস বা বছরজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে।

ব্যাংককে আয়োজিত গ্যাসটেক কনফারেন্সে শেল-এর ইন্টিগ্রেটেড গ্যাসের প্রেসিডেন্ট সেডেরিক ক্রেমার্স বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া—এই দুটি ভিন্ন বিষয়। যুদ্ধের আগের অবস্থায় গ্যাসের প্রবাহ ফিরতে আরও অনেক সময়ের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হলেও নিয়মিত সামুদ্রিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।

কাতারের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে ইরানি হামলায়। দেশটির ১৪টি রফতানি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১৭ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা প্রতি বছর বাজারে ১২৮ মিলিয়ন টন গ্যাসের ঘাটতি তৈরি করেছে। কাতার এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, এই মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) তথ্যানুযায়ী, কাতার ও আমিরাতের এলএনজি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি, যার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়েছিল। ক্রেমার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই দুই দেশ থেকে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন টন সরবরাহ বাজারে অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন টন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নতুন উৎস থেকে এলেও বাকি ঘাটতি চাহিদা হ্রাস ও মজুদ থেকে পূরণ করতে হয়েছে।

আইইএফ ও জাপানের জোগমেকের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে উদ্বৃত্ত তরলীকরণ ক্ষমতা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী এলএনজি প্রতিস্থাপনের জন্য অপর্যাপ্ত ছিল, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন টন গ্যাসের ব্যবধান তৈরি করেছে। যুদ্ধের ঝুঁকি ও বিমা খরচ বেশি হওয়ায় ট্যাংকারগুলো পারস্য উপসাগরে ফিরতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এই জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপে। বিশেষ করে ভারত তার এলএনজির প্রায় ৭৫ শতাংশ হরমুজ রুট থেকে সংগ্রহ করত। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশের জন্য তা ৭১ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট এই বিঘ্ন ইউরোপের শীতকালীন জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যেখানে এশীয় ক্রেতারা বিকল্প কার্গোর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানেরহরমুজের আকাশে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহসপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সৌদির তেল পাইপলাইন, আরও কমবে তেল সরবরাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধের ঝুঁকির বিমা ব্যয় বেশি থাকা এবং নিরাপত্তার শঙ্কা বজায় থাকায় এলএনজি ট্যাংকারগুলোও পারস্য উপসাগরে ফিরে আসতে ধীরগতি দেখাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহাদেশ জুড়ে গ্যাসের মজুদ ঐতিহাসিক কম স্তরে রয়েছে, অন্যদিকে এশীয় ক্রেতারা বিকল্প কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।