Hi

১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, অর্থাভাবে থমকে আছে জীবন বাঁচানোর লড়াই

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারক পাড়ার বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী মোসা. রোকসানা খাতুন এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। দুই সন্তানের জননী এই নারী দীর্ঘ দেড় বছর ধরে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে তার দুটি কিডনিই প্রায় অকেজো হয়ে পড়ায় জীবন টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দীর্ঘ পরীক্ষার পর মার্চ মাসে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তার কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরবর্তী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন।

রোকসানার স্বামী মো. আমিন তার স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে সবটুকু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজে তার একটি কিডনি স্ত্রীকে দান করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগটি বর্তমানে থমকে আছে চরম আর্থিক সংকটের কারণে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। আমিন একসময় স্থানীয় একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি এখন কর্মহীন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কাজ হারানোয় এবং দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে পরিবারটি আজ দিশেহারা।

বর্তমানে রোকসানার সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যাতায়াত খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে যে বিপুল অংকের অর্থের প্রয়োজন, তা বহন করা এই পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অর্থের অভাবে প্রতি মুহূর্তেই তার শারীরিক ঝুঁকি বাড়ছে।

এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, রোকসানার পরিবার যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেয়, তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি চিকিৎসা সহায়তা তহবিল থেকে এই পরিবারকে সাহায্যের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসাই এখন রোকসানার পরিবারটির বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। দুই সন্তানের মাতাকে নতুন জীবন দিতে এবং একটি ভেঙে পড়া পরিবারকে রক্ষা করতে সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছেন রোকসানার স্বামী আমিন।

জনপ্রিয়

জুলাই-আগস্টে বন্যার উচ্চঝুঁকি: ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় সতর্কবার্তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

স্ত্রীকে কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, অর্থাভাবে থমকে আছে জীবন বাঁচানোর লড়াই

আপডেট : ১০:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারক পাড়ার বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী মোসা. রোকসানা খাতুন এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। দুই সন্তানের জননী এই নারী দীর্ঘ দেড় বছর ধরে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে তার দুটি কিডনিই প্রায় অকেজো হয়ে পড়ায় জীবন টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দীর্ঘ পরীক্ষার পর মার্চ মাসে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তার কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরবর্তী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন।

রোকসানার স্বামী মো. আমিন তার স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে সবটুকু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজে তার একটি কিডনি স্ত্রীকে দান করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগটি বর্তমানে থমকে আছে চরম আর্থিক সংকটের কারণে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। আমিন একসময় স্থানীয় একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি এখন কর্মহীন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কাজ হারানোয় এবং দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে পরিবারটি আজ দিশেহারা।

বর্তমানে রোকসানার সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যাতায়াত খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে যে বিপুল অংকের অর্থের প্রয়োজন, তা বহন করা এই পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অর্থের অভাবে প্রতি মুহূর্তেই তার শারীরিক ঝুঁকি বাড়ছে।

এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, রোকসানার পরিবার যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেয়, তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি চিকিৎসা সহায়তা তহবিল থেকে এই পরিবারকে সাহায্যের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসাই এখন রোকসানার পরিবারটির বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। দুই সন্তানের মাতাকে নতুন জীবন দিতে এবং একটি ভেঙে পড়া পরিবারকে রক্ষা করতে সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছেন রোকসানার স্বামী আমিন।