Hi

০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অস্ত্রোপচার ছাড়াই বিরল পঞ্চসন্তানের জন্ম: সংকটাপন্ন অবস্থায় তিন নবজাতক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৩৪ জন দেখেছে

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক অভূতপূর্ব ও বিরল ঘটনার সাক্ষী হলেন চিকিৎসক ও স্বজনরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়ায় এক নারী একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে জন্ম নেওয়া পাঁচটি শিশুর মধ্যে দুটি শিশু মারা গেছে এবং বাকি তিনটির অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। নবজাতকদের মা চাঁদনী বেগম ফরিদপুর সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান ডলারের স্ত্রী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মা হওয়ার খবরটি পরিবারে আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, সময়ের অনেক আগেই শিশুদের জন্ম নেওয়ায় এখন শোক ও দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এসেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে প্রসব বেদনা নিয়ে চাঁদনী বেগমকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে পরবর্তী ৩০ মিনিটের ব্যবধানে তিনি একে একে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন। নবজাতকদের মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে ছিল। জন্ম নেওয়ার পরপরই একটি ছেলে ও একটি মেয়ে শিশু মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার ২৮তম সপ্তাহে এই শিশুদের জন্ম হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ৪০ সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন ছিল। অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়ায় নবজাতকদের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা তাদের বেঁচে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া শিশুদের শারীরিক বিকাশের অনেক ধাপ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

হাসপাতালের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী জানান, জীবিত তিনটি নবজাতকের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের বেঁচে থাকার জন্য বিশেষায়িত নিওনেটাল ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা এনআইসিইউ (NICU) সাপোর্ট একান্ত প্রয়োজন। তবে দুঃখজনকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও শারীরিক জটিলতার কারণে তারা এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে প্রসূতি চাঁদনী বেগমের শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল নয়। প্রসব পরবর্তী জটিলতায় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের নার্স মিনতি সরকার জানান, নবজাতকদের শারীরিক গঠন অসম্পূর্ণ এবং তাদের চোখ এখনো পুরোপুরি ফোটেনি। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন পরিবার। চিকিৎসকরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়ায় প্রতিটি মুহূর্তই শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

বংশালে হেলমেটের গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফরিদপুরে অস্ত্রোপচার ছাড়াই বিরল পঞ্চসন্তানের জন্ম: সংকটাপন্ন অবস্থায় তিন নবজাতক

আপডেট : ১১:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক অভূতপূর্ব ও বিরল ঘটনার সাক্ষী হলেন চিকিৎসক ও স্বজনরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়ায় এক নারী একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে জন্ম নেওয়া পাঁচটি শিশুর মধ্যে দুটি শিশু মারা গেছে এবং বাকি তিনটির অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। নবজাতকদের মা চাঁদনী বেগম ফরিদপুর সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান ডলারের স্ত্রী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মা হওয়ার খবরটি পরিবারে আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, সময়ের অনেক আগেই শিশুদের জন্ম নেওয়ায় এখন শোক ও দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এসেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে প্রসব বেদনা নিয়ে চাঁদনী বেগমকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে পরবর্তী ৩০ মিনিটের ব্যবধানে তিনি একে একে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন। নবজাতকদের মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে ছিল। জন্ম নেওয়ার পরপরই একটি ছেলে ও একটি মেয়ে শিশু মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার ২৮তম সপ্তাহে এই শিশুদের জন্ম হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ৪০ সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন ছিল। অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়ায় নবজাতকদের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা তাদের বেঁচে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া শিশুদের শারীরিক বিকাশের অনেক ধাপ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

হাসপাতালের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী জানান, জীবিত তিনটি নবজাতকের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের বেঁচে থাকার জন্য বিশেষায়িত নিওনেটাল ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা এনআইসিইউ (NICU) সাপোর্ট একান্ত প্রয়োজন। তবে দুঃখজনকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও শারীরিক জটিলতার কারণে তারা এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে প্রসূতি চাঁদনী বেগমের শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল নয়। প্রসব পরবর্তী জটিলতায় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের নার্স মিনতি সরকার জানান, নবজাতকদের শারীরিক গঠন অসম্পূর্ণ এবং তাদের চোখ এখনো পুরোপুরি ফোটেনি। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন পরিবার। চিকিৎসকরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়ায় প্রতিটি মুহূর্তই শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।