Hi

১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র গরমে শিশুর ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায় ও করণীয়: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মধ্যে ঘামাচির প্রকোপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে আমাদের দেশের আবহাওয়া ও আর্দ্রতায় ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে এটি শিশুর অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খানের মতে, ঘামাচি মূলত ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি কম সুগঠিত হওয়ায় ঘাম বের হতে বাধা পায়, যা ত্বকের গভীরে ঘাম জমে ঘামাচির রূপ নেয়। এছাড়া শিশুদের অতি সক্রিয়তা এবং খেলাধুলার সময় ত্বকে ময়লা জমার কারণেও এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

ঘামাচি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিশুদের জন্য সুতি ও পাতলা কাপড়ের পোশাক নির্বাচন করা জরুরি, যা দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। কৃত্রিম তন্তু বা সিন্থেটিক কাপড়ের পোশাক ঘাম আটকে রাখে, যা ঘামাচি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া শিশুকে ডায়াপার পরানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে; দীর্ঘক্ষণ প্লাস্টিক-জাতীয় স্তরের ডায়াপার ব্যবহার না করাই উত্তম। গরমের সময় শরীর ঘেমে গেলে দ্রুত তা মুছে ফেলা, বগল বা কুঁচকির মতো শরীরের ভাঁজগুলো পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে দিনে দুবার গোসল করানো শিশুর ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক।

ডা. তাসনুভা খান আরও পরামর্শ দেন যে, ঘামাচি হলে ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি, ভারী ময়েশ্চারাইজার বা তেল ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এগুলো ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ করে সমস্যার অবনতি ঘটাতে পারে। ভেজা ত্বকে পাউডার ব্যবহার করাও অনুচিত। ঘামাচি সাধারণত বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াই সেরে যায়, তবে শিশুর অস্বস্তি কমাতে আক্রান্ত স্থানে বরফ পেঁচানো নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। চুলকানি কমাতে নখ দিয়ে না ঘষে হাতের তালু দিয়ে আলতো চাপ দেওয়া যেতে পারে।

অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো ধরনের রাসায়নিক লোশন বা ফার্মেসি থেকে কেনা মলম চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত মলম শিশুর ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। যদি ঘামাচিতে পুঁজ জমতে শুরু করে, জ্বর আসে বা চুলকানি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। সচেতনতা এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে গরমের এই সাধারণ সমস্যা থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় স্কুল কামাইয়ের পরামর্শ টুখেলের, কঠোর অবস্থানে ব্রিটিশ সরকার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

তীব্র গরমে শিশুর ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায় ও করণীয়: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

আপডেট : ০৮:৪৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মধ্যে ঘামাচির প্রকোপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে আমাদের দেশের আবহাওয়া ও আর্দ্রতায় ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে এটি শিশুর অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খানের মতে, ঘামাচি মূলত ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি কম সুগঠিত হওয়ায় ঘাম বের হতে বাধা পায়, যা ত্বকের গভীরে ঘাম জমে ঘামাচির রূপ নেয়। এছাড়া শিশুদের অতি সক্রিয়তা এবং খেলাধুলার সময় ত্বকে ময়লা জমার কারণেও এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

ঘামাচি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিশুদের জন্য সুতি ও পাতলা কাপড়ের পোশাক নির্বাচন করা জরুরি, যা দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। কৃত্রিম তন্তু বা সিন্থেটিক কাপড়ের পোশাক ঘাম আটকে রাখে, যা ঘামাচি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া শিশুকে ডায়াপার পরানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে; দীর্ঘক্ষণ প্লাস্টিক-জাতীয় স্তরের ডায়াপার ব্যবহার না করাই উত্তম। গরমের সময় শরীর ঘেমে গেলে দ্রুত তা মুছে ফেলা, বগল বা কুঁচকির মতো শরীরের ভাঁজগুলো পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে দিনে দুবার গোসল করানো শিশুর ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক।

ডা. তাসনুভা খান আরও পরামর্শ দেন যে, ঘামাচি হলে ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি, ভারী ময়েশ্চারাইজার বা তেল ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এগুলো ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ করে সমস্যার অবনতি ঘটাতে পারে। ভেজা ত্বকে পাউডার ব্যবহার করাও অনুচিত। ঘামাচি সাধারণত বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াই সেরে যায়, তবে শিশুর অস্বস্তি কমাতে আক্রান্ত স্থানে বরফ পেঁচানো নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। চুলকানি কমাতে নখ দিয়ে না ঘষে হাতের তালু দিয়ে আলতো চাপ দেওয়া যেতে পারে।

অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো ধরনের রাসায়নিক লোশন বা ফার্মেসি থেকে কেনা মলম চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত মলম শিশুর ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। যদি ঘামাচিতে পুঁজ জমতে শুরু করে, জ্বর আসে বা চুলকানি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। সচেতনতা এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে গরমের এই সাধারণ সমস্যা থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।